ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
‘মনে হচ্ছে ভূস্বর্গ থেকে যেন জান্নাতে ফিরলাম’
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 18 November, 2019, 12:22 PM

‘মনে হচ্ছে ভূস্বর্গ থেকে যেন জান্নাতে ফিরলাম’

‘মনে হচ্ছে ভূস্বর্গ থেকে যেন জান্নাতে ফিরলাম’

ভূস্বর্গ কাশ্মীর এখন মৃত্যুপুরী। গত ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত কাশ্মীরের লোকজন নরক যন্ত্রণায় আছেন।

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা গত তিন মাস ধরে ব্যাহত। এমনকি সেখানে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা পর্যন্ত প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারছেন না। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

অন্য বছরগুলোর মতো এ বছরও পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাশ্মীরের ফল বাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন অনেক শ্রমিক।

গত ২৯ অক্টোবর কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিক। গুলিবিদ্ধ হলেও প্রাণে বেঁচে যান জহিরুদ্দিন।

শ্রীনগর হাসপাতালে বেশ কিছু দিন ভর্তি থাকার পর গত বুধবার কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে।

গত শনিবার রাতে সেখান থেকেই মুর্শিদাবাদের বাহালনগরের বাড়িতে পৌঁছেন তিনি। ডান হাতে প্লাস্টার। পায়ে গুলির ক্ষত। পেটে সেলাই। শরীরজুড়ে ব্যথা-যন্ত্রণা।

তবু ফুলআঁকা বালিশে মাথা রেখে হাসছেন জহিরুদ্দিন সরকার। সে হাসিতে মিশে রয়েছে স্বস্তি আর প্রশান্তি। জহিরুদ্দিন বলেন, ‘ভূস্বর্গ থেকে মনে হচ্ছে যেন জান্নাতে ফিরলাম!’

জহিরুদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন তার দুই আত্মীয় আহাদ সরকার ও দিলবর শেখ। গাড়িতে শুয়েই জহিরুদ্দিন তাদের কাছে কখনও জানতে চেয়েছেন- ‘কী রে, বর্ধমান পেরোলাম নাকি?’ কখনও গাড়ির আলোয় চেনা এলাকা দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন- ‘ওরে, এ যে মোরগ্রামে চলে এলাম। বাড়িতে ফোন কর, এই এলাম বলে!’

জহিরুদ্দিন বলেন, ‘ভাবতেই পারিনি বেঁচে বাড়ি ফিরব। ফের স্ত্রী, বাবা, মাকে দেখতে পাব। কলকাতা থেকে গাড়িতে আসার সময় তাই আর তর সইছিল না।’

জহিরুদ্দিন গ্রামে ফিরছেন— খবরটা শনিবার বিকালেই গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিল। সে কারণে জহিরুদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে রাত জেগে অপেক্ষায় ছিল তামাম বাহালনগর।

জহিরুদ্দিনের মা আতিয়ারা বিবি বলেন, এই ক’টা দিন আমাদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। ছেলে যে প্রাণে বেঁচে আছে, এটিই আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।

স্ত্রী পারমিতা বলেন, দুর্ঘটনার পর আমিও ভেবেছিলাম- সবশেষ। কিন্তু তার দুদিন পর ফোনে স্বামীর গলা শুনে ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে আসে। এখনও ও পুরোপুরি সুস্থ নয়। তবে ও বাড়ি ফেরায় আমরাও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি।

প্লাস্টার না হওয়া ঘরের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে জহিরুদ্দিন বলেন, ঘরবাড়ির অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছেন। সেভাবে কিছুই করতে পারিনি। একটা সময় ঘরদোরের এমন অবস্থা দেখে নিজেরই খারাপ লাগত।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বাড়িঘর শুধু ইট-সিমেন্টের নয়। তার সঙ্গে অনেক মায়াও লেপ্টে থাকে। শ্রীনগর ও কলকাতার হাসপাতালে শুয়ে সেটিই শুধু মনে হতো। এখনও মাঝে মাঝে মনে হয়, সত্যিই বাড়ি ফিরেছি নাকি স্বপ্ন দেখছি! 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status