|
‘আমাকে গর্ভের সন্তানের ক্ষতির হুমকি দিয়ে বাধ্য করা হয়’
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ‘আমাকে গর্ভের সন্তানের ক্ষতির হুমকি দিয়ে বাধ্য করা হয়’ মনি জবানবন্দিতে জানায়, চলতি বছর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল সে। ওই মাদ্রাসায় ক্লাস ফোর থেকে পড়াশোনা করছে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয়। পরীক্ষার কারণে মনি তার বাবার বাড়িতে ছিল। সিরাজের মুক্তির দাবিতে যে মানববন্ধন সোনাগাজীতে হয়েছিল তার খরচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়, এই তথ্য জানিয়ে মনি উল্লেখ করে- ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাতকে নিপীড়ন করলে ওই ঘটনায় মামলা হয়। ওই দিন তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে মাদ্রাসায় গেলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা বেশি রাখা হয়। মানববন্ধনের খরচের জন্য ওই অর্থ রাখে কর্তৃপক্ষ। প্রথম মানববন্ধনের দিন উপস্থিত ছিল মনি। দ্বিতীয় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিল না সে। আলিম পরীক্ষা শুরু হয় ১ এপ্রিল। দ্বিতীয় পরীক্ষার দিন উম্মে সুলতানা পপি দুই হাজার টাকা দেয় মনিকে। পপি তখন মনিকে জানায়, শাহাদাত হোসেন শামীম তাকে দুই হাজার টাকা দিতে বলেছে। শামীমের নির্দেশে ওই টাকা দিয়ে দুটি বোরকা ও চার জোড়া মোজা কেনার কথা জানায় পপি। ওই বোরকা ও মোজা ৬ এপ্রিল সাইক্লোন শেল্টারের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের কোনো একটিতে রাখার জন্য বলা হয়। কেন বোরকা কিনতে হবে জানতে চাইলে পপি জানায়, এটা শামীমের নির্দেশ। বোরকা ও মোজা না কিনলে পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে ওই অর্থ পাওয়ার পরদিন সোনাগাজী বাজারের মানিক প্লাজার ‘ওয়ার্ল্ড ফেমাস বোরকা হাউস’ থেকে এক হাজার ৯৮০ টাকা দিয়ে দুটি কালো বোরকা কেনা হয়। ওই দোকানের মালিক জনৈক জসিম উদ্দীন। তিনি মনির শ্বশুরবাড়ির এলাকার লোক। বোরকা কেনার পর বড় মসজিদের কাছের ফুটপাতের দোকান থেকে ৪ জোড়া কালো রঙের মোজা কেনা হয়। বোরকা ও মোজা কেনার পর তা নিয়ে নিজের বাড়িতে রাখে মনি। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে মাদ্রাসায় যায় সে। মাদ্রাসায় যাওয়ার পরই পপির কথামতো বোরকা ও মোজা সাইক্লোন শেল্টারের দ্বিতীয় তলায় অধ্যক্ষ সিরাজের পাশের একটি কক্ষে রাখা হয়। তখনও বোরকা ও মোজা একটি শপিং ব্যাগে রাখা ছিল। যে কক্ষে মোজা ও বোরকা রাখা হয়েছিল, সেখানে ঢুকে শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ ও জোবায়েরকে দেখে মনি। শামীম তার দূরসম্পর্কের মামা ও জাবেদ সহপাঠী। জোবায়ের মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র। কক্ষে যাওয়ার পর শামীম প্রথমে তার হাতে বোরকা নিয়ে নেয়। এরপর মনিকে তারা ছাদে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে মনি ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে ছাদে না গিয়ে নিচে যায়। একটু পর ছাদে যায় সে। ছাদে গিয়ে শামীম, জাবেদ ও জোবায়েরকে দেখে মনি। তারা বোরকা ও হাতমোজা পরিহিত ছিল। একটু পর উম্মে সুলতানা পপি আসে। পপির পেছনে আসে নুসরাত জাহান রাফি। সে এসে নিশাতকে খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে শামীম পপির হাতে একটি কাগজ দিয়ে তাতে নুসরাতের স্বাক্ষর নিতে বলে। মনির ভাষ্য- অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে সাদা ওই কাগজে স্বাক্ষর দিতে নুসরাতকে চাপ দেওয়া হয়। নুসরাত তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর শামীম পপিকে নুসরাতের ওড়না খুলে নিতে বলে। তখন পপি নুসরাতের ওড়না খুলে জোবায়েরের হাতে দেয়। জোবায়ের ওই ওড়না দুই ভাগ করে। এরপর শামীম পপিকে নির্দেশ দেয় নুসরাতের হাত বাঁধতে। পপি নুসরাতের দুই হাত পেছন দিক থেকে বেঁধে ফেলে। এরপর শামীম নুসরাতের মুখ চেপে ধরে তাকে নিচে ফেলে দেয়। জোবায়ের নুসরাতের পা বেঁধে রাখে। পপি ওড়নার অর্ধেক অংশ দিয়ে নুসরাতের পা বাঁধে। তখন কিছু বুঝে উঠে পারছিল না মনি। শামীম মনিকে নুসরাতের বুক চেপে ধরার নির্দেশ দেয়। এতে রাজি না হলে শামীম তার পেটে লাথি মেরে অনাগত সন্তানের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। ভয়ে শামীমের কথামতো নুসরাতের বুক চেপে ধরে মনি। এরপর শামীম জাবেদকে নির্দেশ দেয় বাথরুমের কাছে রাখা কেরোসিন নিতে আসতে। তখন জাবেদ কেরোসিন এনে নুসরাতের গায়ে ছিটিয়ে দেয়। ওই সময় কেরোসিন পলিথিনে ছিল। এরই মধ্যে শামীম জোবায়েরকে ইশারা দিয়ে ম্যাচ নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেয়। তখন জোবায়ের ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে জ্বলন্ত কাঠি রাফির শরীরে ছুড়ে দেয়। এরপর ভয়ে দৌড়ে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায় মনি। নামার সময় পপিকে ‘চম্পা’ বলে ডাক দেয়। আগে থেকেই পপি তার নাম ‘চম্পা’ বলে ডাকতে শিখিয়ে দেয় মনিকে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
