ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
মেধাবী শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ, চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 19 June, 2019, 11:12 AM

মেধাবী শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ, চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন

মেধাবী শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ, চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন

মণিরামপুরের মাহমুদকাটি গ্রামের মেধাবী ছাত্র বিষ্ণুপদ দাস। সফলতার সঙ্গে এইচএসসি পাশ করার পর ভর্তি হয় অনার্সে। ছয়মাস ক্লাস করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পড়ালেখাসহ সব কাজে একেবারে আনমনা।

একদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কি যেন বলতে থাকে বিষ্ণু। হঠাৎ ছেলের এমন পরিবর্তন দেখে হতাশ অসহায় বাবা-মা। সাধ্যমত ডাক্তার-কবিরাজও দেখিয়েছেন তারা। কিন্তু ফল পাননি। ধীরে ধীরে সমস্যা প্রকট হতে থাকে।




পরিবার সূত্র বলছে, মাস দুয়েক আগ থেকে অসুস্থতা আরো গুরুত্বর হয়। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়িতে আসা লোকজন বা পথচারীদের মারতে উদ্ধুত হয় সে। বিষ্ণুর ভয়ে কেউ তাদের বাড়িতে ঢুকতে পারে না, এমনকি তার বাবা-মাও ছেলের হামলার আশঙ্কায় সবসময় আতঙ্কে থাকেন।

একপর্যায়ে গত শুক্রবার (৭ জুন) সকালে হঠাৎ বটি নিয়ে বাবা কালিপদকে তাড়া করে বিষ্ণু। তিনি দৌঁড়ে পালাতে পারলেও রক্ষা পাননি মা গীতা রানী। ছেলের হাত থেকে বটি নিতে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে যখম করে সে। মাকে কুপিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বিষ্ণু। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে খুঁজে এনে হাতে-পায়ে শিকলবন্দী করেন এলাকাবাসী। সে থেকে বাড়িতে শিকলবন্দী বিষ্ণু।

বিষ্ণুর মা এখন যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি। ছেলের কোপে তার ডান হাতে ২৪টি সিলাই দিয়েছেন চিকিৎসক। প্রথমে তাকে মণিরামপুর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

বিষ্ণুর বাবা কালিপদ বলেন, দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে বিষ্ণু ছোট। ছেলেটা লেখা পড়ায় বরাবরই ভাল ছিল। একেবারে শান্ত স্বভাবের ছিল সে। কোনো সময় কারো সঙ্গে মারামারি করতে দেখিনি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় হঠাৎ ছেলের মধ্যে পরিবর্তন দেখি। ছেলেটা একদিকে আনমনা হয়ে বিড়বিড় করে কি যেন বলতে থাকত, আমরা হাজার ডাকলেও শুনত না। তখন হোমিও, কবিরাজি ডাক্তার দেখিয়েছি। কাজ হয়নি। পরে যশোর ও খুলনায় নিয়ে বড়বড় ডাক্তার দেখাইছি। ওষুধ চললে একটু ভাল থাকে, বন্ধ হলে আবার সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি আরো বলেন, আমার ভিটেবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। মাঠে কাজ করে কোনো রকম সংসার চলে। তার মধ্য ছেলের চিকিৎসা খরচ চালাতে বড়ই কষ্ট। আমাগের খোঁজও কেউ নেয় না। ছেলের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় বাবা কালিপদ।

প্রতিবেশী এক নারী জানান, ছোটবেলা থেকে ছেলেটারে মা ওকে ঘরে আটকে রেখে সবসময় বই নিয়ে বসিয়ে রাখত। কারো সঙ্গে মিশতে বা খেলতে দিত না। সে কারণে আস্তে আস্তে ছেলেটা পাগল হতে থাকে। পড়তে পড়তে ছেলেটা পাগল হয়েছে!

প্রতিবেশী কামাল বলেন, বিষ্ণুর বাবা-মা ওর সঙ্গে পেরে ওঠে না। সবসময় বাড়িতে উৎপাত করে। কেউ ঠেকাতে আসলে তার দিকেও তেড়ে যায়। ওরে পাবনায় পাঠানো দরকার। কিন্তু তাদের তো টাকা পয়সা নেই। সরকারি বা কোনোভাবে সাহায্য পেলে হয়ত বিষ্ণু আবার ভালো হতো।

স্থানীয় টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবুল ইসলাম বলেন, বিষ্ণুর বাবা খুব অসহায়। ছেলের চিকিৎসা করানোর সামর্থ তার নেই। আমার মনে হচ্ছে, ভালো চিকিৎসা পেলে ছেলেটা ভালো হয়ে যেত। সামর্থ্যবান সবাইকে পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status