ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
ক্ষমা চেয়ে সেই মাকে ঘরে তুললেন ছোট ছেলে
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 19 May, 2019, 5:32 PM

ক্ষমা চেয়ে সেই মাকে ঘরে তুললেন ছোট ছেলে

ক্ষমা চেয়ে সেই মাকে ঘরে তুললেন ছোট ছেলে

ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলেদের হাতে মারধরের শিকার সেই মায়ের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে ১২ দিন পর ঘরে তুলেছেন ছোট ছেলে। রোববার সকালে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ ছোট ছেলে খাজিজুল রহমানের হাতে সেই মাকে তুলে দেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর পাড়িয়া ইউপির পাঁচ দোয়ালের হাফিজ উদ্দীনের স্ত্রী সালেহা বেগম। বিয়ের পর তিন ছেলের জন্ম হওয়ার কয়েকবছর পরই তার স্বামীর মৃত্যু হয়।





সালেহা বলেন, স্বামীর শেষ সম্পত্তিটুকু আগলে অনেক কষ্টে বড় ছেলে খলিলুর রহমান, মেজো ছেলে আব্দুল ও ছোট ছেলে খাজিজুল রহমানকে লালন-পালন করি। পরে তিন ছেলেকে বিয়ে দেই। কিন্তু বিয়ের পর কোন ছেলেই আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। এক মাস আগে স্বামীর শেষ সম্বল ২০ শতক জমিটুকুও জোর করে ছোট ছেলে খাজিজুল রহমান টিপসই দিয়ে লিখে নেয়।

১২ দিন আগে প্রথমে ছোট ছেলে খাজিজুল রহমান মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বড় ছেলে খলিলুর রহমান ও মেজো ছেলে আব্দুলও মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ছেলেদের মারধরে শিকার সালেহা কোথাও আশ্রয় না পেয়ে ১০ দিন ধরে ভিক্ষা করে সরকারি অফিসের বারান্দায় রাত্রিযাপন করে আসছিলেন।

বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল ও ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত এসপি আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলামের নজরে আসে।

পরে তারা স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই আমজাদ হোসেন ও হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়িত্ব দেন সেই মাকে ও তার ছেলেদের খোঁজার। শনিবার সারাদিন অনেক খোঁজাখুজি করে রাতে থানায় সেই মায়ের বড় ছেলে খলিলুর রহমান ও ছোট ছেলে খাজিজুল রহমানকে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে সেই মাকে থানায় হাজির করা হয় ছেলেদের সামনে।

এ সময় মায়ের পায়ে পরে ক্ষমা চান ছোট ছেলে খাজিজুর রহমান। এছাড়াও সোমবার লাহিড়ী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ২০ শতক জমি ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে মায়ের ২০ শতক জমি লিখে নেয়া ও তাকে মারধরের কথা স্বীকার করে খাজিজুল রহমান। এ সময় এসআই আমজাদ হোসেন ওই ছেলেকে মারধর করার কথা বললে পুলিশের হাত ধরে তাকে মারতে নিষেধ করেন ওই মা। এমনকি তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন সালেহা।

পরে সোমবার লাহিড়ী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করে নেয়া ২০ শতক জমি ফিরিয়ে দিবেন ও নিয়মিত মায়ের দেখাশুনা করবেন এমন শর্তে বৃদ্ধা মাকে ছোট ছেলে খাজিজুর রহমানের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ওই বৃদ্ধা মাকে ঈদের শাড়ি, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা তুলে দেয়া হয়।

খাজিজুল রহমান বলেন, ভুল বুঝে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। এ কয়দিনে মায়ের অভাব বুঝতে পেরেছি। আর মাকে কষ্ট দিবো না। মায়ের সম্পত্তি মায়ের নামে লিখে দিবো।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত এসপি আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, পুলিশের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধা মাকে ঘরে তুলেছে ছোট ছেলে। সেই সঙ্গে সোমবার জমি ফেরতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে একজন এসআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়ার জন্য।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status