এপস্টেইন ফাইল নিয়ে নতুন রহস্য, লাখ লাখ পৃষ্ঠা কোথায় গেল?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 29 October, 2026, 1:18 PM
এপস্টেইন ফাইল নিয়ে নতুন রহস্য, লাখ লাখ পৃষ্ঠা কোথায় গেল?
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির বিচার বিভাগের (ডিওজে) প্রকাশ করা নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ এবং বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার ধারাবাহিকতায় অসংগতি পেয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ফাইলসের অন্তত তিনটি নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি নথি থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের দপ্তরে এপস্টেইন-সম্পর্কিত শ্রেণিবদ্ধ উপকরণ পাঠানো হয়েছিল।
অথচ ব্ল্যাঞ্চ আগে দাবি করেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো নথি আটকে রাখা বা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়নি। তবে নতুন অনুসন্ধানে ঠিক কী তথ্য শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল কিংবা সেগুলো প্রকাশিত নথির বাইরে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দাবি, এপস্টেইন-সম্পর্কিত প্রায় ৬০ লাখ পৃষ্ঠার নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলো পর্যালোচনার পর তিন লাখ নয়, ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি, আইনজীবী-মক্কেলের গোপনীয়তা এবং মামলার সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাকি নথি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
তবে নথির নম্বর বিশ্লেষণ করে সিবিএস নিউজ আর্থিক নথি ও ইমেইলের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের গড়মিল পেয়েছে। এপস্টেইনের ব্যাংক হিসাবের প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি চেকের ছবির মধ্যে ৬৬টি ছবির অনুপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিছু নথির পুরোনো নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত পাতার নম্বরের অসংগতিও শনাক্ত হয়েছে।
সাবেক মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর বারবারা ম্যাককুয়েড সিবিএস নিউজকে বলেন, আর্থিক নথি বাদ দেওয়া অনুমোদিত কোনো শ্রেণির মধ্যে পড়ে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমেইলের নম্বরের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার সম্ভাব্য ঘাটতি শনাক্ত করা গেছে। তবে এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে, নাকি একই ইমেইলের পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া কিংবা পর্যালোচনার সময় ভুলের কারণে অনুপস্থিত—তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে, আরও নথি প্রকাশ এবং তথ্য গোপন বা বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যার দাবিতে স্বাধীন সাংবাদিক কেটি ফ্যাং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার পক্ষে আদালতের কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিভাগটি।
বিচার বিভাগ এর আগে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছে। তবে সিবিএস নিউজের অনুসন্ধানে উঠে আসা নতুন তথ্যের বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
নথির অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ঠিক কী তথ্য বাদ পড়েছে বা সেগুলো কেন গোপন রাখা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।