ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা
উসমান গণি
প্রকাশ: Wednesday, 28 October, 2026, 9:04 PM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 28 October, 2026, 9:07 PM

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিকের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোকন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর আগেও ঠিকাদারকে কয়েকবার আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকায় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মাঠে হামলার অভিযোগ এনে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার বাসিন্দা।

এজাহারে আমজাদ হোসেন খোকনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

অভিযুক্ত অপর ৫ জন হলেন, জিয়াউর রহমান,  জিল্লুর রহমান, সাকের উল্লাহ, সাইফুল্লাহ ও কামাল হোসেন।

অভিযুক্ত খোকন সহ সকলে একাধিক মামলার আসামি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবু বকর ছিদ্দিক দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উত্তর শীলখালী এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পান। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই আমজাদ হোসেন খোকনের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে খোকন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে ওই এলাকায় কোনো ঠিকাদারি কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া এবং প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ অক্টোবর আশ্রয়কেন্দ্রটির ছাদ ঢালাইয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। এ উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক তাঁর সহযোগী নুরুল আলম হেলালীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। সেখানে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির, দুর্যোগ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের জেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে খোকন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঢালাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং আগের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে খোকন মুঠোফোনে তাঁর সহযোগীদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য অভিযুক্তরা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন দা, কিরিচ ও লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ঠিকাদারকে জাপটে ধরে মারধর করেন। তাঁকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ও ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরলে খোকন তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা শ্রমিকদের মজুরির জন্য রাখা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।
ঠিকাদার ও শ্রমিকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় পুনরায় নির্মাণকাজ করতে গেলে তাঁকে অপহরণ করে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

পরে সহকর্মীরা আহত ঠিকাদারকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারের দাবি, ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে সংরক্ষিত রয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। এর আগেও তাঁকে কয়েকবার আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব ঘটনার কারণে সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

এব্যাপারে যুবলীগ নেতা বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status