আবাসিক ফ্ল্যাটে নকল ওষুধ-প্রসাধনীর কারখানা, গ্রেপ্তার ৩
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 7 October, 2026, 5:41 PM
আবাসিক ফ্ল্যাটে নকল ওষুধ-প্রসাধনীর কারখানা, গ্রেপ্তার ৩
গাজীপুর মহানগরীর গাছায় আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গোপনে গড়ে তোলা নকল ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও লেবেলবিহীন পণ্য, বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক-স্টিকার এবং তারিখ ও লেবেল বসানোর মেশিন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানায় থাকা তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে গেছে কথিত মূলহোতা।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক এলাকার চায়না ফ্যাক্টরির পাশে আবদুল জলিল গাজীর আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে গাছা থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওই ফ্ল্যাটে কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, স্বাস্থ্যপণ্য ও প্রসাধনী তৈরি ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। পরে এসব পণ্য বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল।
এ ছাড়া লেভেলবিহীন বিপুল পরিমাণ পণ্যও পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল পঞ্চগনি, তামান্না এলোভেরা শ্যাম্পু, হোমমেড সেরেলাক, মেসওয়াক প্লাস, নাইট কিং, চুলকানির লোশন, স্প্রে, মেথি মিক্স, ন্যাচারাল এলার্জি বিনাশ, চর্মরোগ বিনাশ ক্রিম, মুলতানি মাটি, হালুয়া, খিচুরী মিক্সড চাউল, ডেন্টা ড্রপ, গুড হেলথ-২৪, স্কিন ক্লিন শ্যাম্পু ও গুড বাই ডায়াবেটিকস।
পণ্যগুলোকে আসল হিসেবে বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিপুল পরিমাণ লেবেল ও স্টিকার মজুত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ বসানোর কাজে ব্যবহৃত একটি ডাইরেক্ট হিট কোডিং মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জব্দ করা এসব পণ্যের কোনো বৈধ অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়নি। অনুমোদনহীনভাবে তৈরি এসব পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ঘটনায় গাছা থানার এসআই (নিঃ) নয়ন আহমেদ বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-সি/২৫-ডি ধারায় মামলা করেছেন।
পলাতক মাহমুদ হাসানকে গ্রেপ্তার এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।