|
পিচ্চি রাজার পলায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা, সাত দিনেও হদিস নেই
দুই পুলিশ গ্রেপ্তার, পাঁচ সদস্যের বক্তব্যে মিলছে না তথ্য
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() পিচ্চি রাজার পলায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা, সাত দিনেও হদিস নেই তবে তাকে ঘিরে তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক অসঙ্গতি। বিশেষ করে তিনি ঠিক কোথা থেকে পালিয়েছেন এবং কীভাবে পুলিশের প্রিজনভ্যান থেকে বেরিয়ে গেলেন—এ নিয়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি। এরই মধ্যে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই-এবি) প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে পিচ্চি রাজা যে স্থান থেকে পালিয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল, তদন্তে সেটি সঠিক নয় বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এমনকি পাঁচ পুলিশ সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়ায় তার পালানোর প্রকৃত স্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা। তবে গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পিচ্চি রাজা ঢাকার তাতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ঘটনার পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু তারা এখনো সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোথা থেকে পালিয়েছে, তা নিয়েও তারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, শুরুতে যে স্থান থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে তদন্তে জানা গেছে। কমিটির আরেক সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, প্রিজনভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে স্বাভাবিকভাবে কোথাও থামার সুযোগ নেই। জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে নিকটবর্তী থানায় প্রিজনভ্যান থামানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে গাড়ি থামানোর কথা বলছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরও বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির কাজ শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম এগোবে। পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পুলিশের প্রিজনভ্যান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই (এবি) প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব, কনস্টেবল শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে পর্যবেক্ষণ কমিটি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে প্রবীর কুমার ও কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্য একেক ধরনের তথ্য দিলেও প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে পিচ্চি রাজা ঢাকার তাতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—পিচ্চি রাজা ঠিক কোথা থেকে পালিয়েছেন, কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল। পাশাপাশি পাঁচ পুলিশ সদস্যের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সাত দিনেও তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
