|
ডার্ক ওয়েবে ঘরের বাজারের ছয় লাখ গ্রাহকের তথ্য
প্রতারণার সুযোগ তৈরির আশঙ্কা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ডার্ক ওয়েবে ঘরের বাজারের ছয় লাখ গ্রাহকের তথ্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ঘরের বাজারের প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার গ্রাহকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির বিজ্ঞাপন ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপনে গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, অর্ডার ও ডেলিভারি তথ্যসহ বিভিন্ন ডাটার অ্যাকসেস থাকার দাবি করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে থাকা একটি নমুনা ফাইলে প্রায় হাজারখানেক মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। এর মধ্যে কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাঁরা নম্বরগুলো নিজেদের বলে নিশ্চিত করেন। তাঁদের কয়েকজন ঘরের বাজারের গ্রাহক হওয়ার বিষয়টিও জানিয়েছেন। ডার্ক ওয়েবে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ৪ দশমিক ১৫ গিগাবাইটের SQL ডাম্পে প্রায় ৪২ লাখ ৭০ হাজার রেকর্ড থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব রেকর্ডের মধ্যে গ্রাহকের প্রোফাইল, ডেলিভারি ঠিকানা, অর্ডার, পণ্য, লজিস্টিকস এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব রেকর্ডের সংখ্যা ইউনিক গ্রাহকের সংখ্যা নয়। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্ডারের তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা ভুয়া ডেলিভারি চার্জ, রিফান্ড বা পেমেন্টের কথা বলে টাকা চাইতে পারে। ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে OTP বা অ্যাকাউন্ট রিকভারি প্রতারণার চেষ্টাও হতে পারে। এ ধরনের তথ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগী বা অপরাধী চক্রের হাতে গেলে ব্যবসায়িক ও গ্রাহক-সংক্রান্ত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁস হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডার্ক ওয়েবের বিজ্ঞাপন দেখে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোন সিস্টেমে কীভাবে প্রবেশ করা হয়েছে, কখন প্রবেশ করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ তথ্য বের করা হয়েছে—এসব জানতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে ঘরের বাজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ে গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, একটি প্রতারক চক্র ঘরের বাজারের নাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশও বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম ও গ্রুপে দেখেছে বলে জানিয়েছে। তবে ঘরের বাজারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পাওয়ায় এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ডার্ক ওয়েবে দেওয়া বিজ্ঞাপনের দাবির সত্যতা, তথ্যের উৎস এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ—এই তিনটি বিষয় এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
