|
মির্জা ফখরুলের আসনে বিএনপির প্রার্থী কে, গুঞ্জন
জামায়াত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও বিএনপি এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মির্জা ফখরুলের আসনে বিএনপির প্রার্থী কে, গুঞ্জন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, এই উপ-নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন, বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম আলোচনায় আসছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসেনকে। যদিও সাধারণ ভোটারদের অভিমত হচ্ছে, জনপ্রতিনিধি যেই হোক; তারা এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রত্যাশা করছেন। ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২১ অগাস্ট শপথ নেওয়ার পরদিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে এই আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। যদিও এই আসনের তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আসনটি শূন্য ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন জনপ্রতিনিধি নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। কে প্রার্থী হচ্ছেন, কার সম্ভাবনা বেশি- এসব বিষয় নিয়ে মানুষ আড্ডায় আলোচনাও করছে। এরই মধ্যে রোববার সকালে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী করার কথা জানানো হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, গত নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের নিজস্ব জনপ্রিয়তার কারণে জয় সহজ হলেও এবার সমীকরণ ভিন্ন হতে পারে। দল সঠিক প্রার্থী মনোনীত করতে না পারলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শহরের কলেজপাড়া এলাকার ভোটার নিবিড় সরকার বলেন, “এলাকার উন্নয়নের জন্য ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।” একই এলাকার সিরাজুল হক বলেন, “আমরা দল বুঝি না, এলাকা ও মানুষের সুখে-দুঃখে যাকে সহজে কাছে পাব, তাকেই ভোট দেব।” বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “আমি সরাসরি রাজনীতি ও জেলা বিএনপির দায়িত্বে আছি, তাই মানুষ আমার বা অন্য কারও নাম বলতেই পারে। তবে শূন্য এই আসনে দলের পক্ষ থেকে কে নির্বাচন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলের হাই কমান্ড ও নীতি-নির্ধারকরাই নেবেন।” জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলে কোনো বিভাজন নেই। কেন্দ্র যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের বিশাল ভোটব্যাংক ধরে রাখার পাশাপাশি বিএনপির নতুন প্রার্থীকে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যদিকে গত নির্বাচনে পাওয়া বড় অঙ্কের ভোটই দেলাওয়ারের মূল শক্তি, যা নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “ভোট যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় এবং মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তবে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।” ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং নবগঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
