|
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী? সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, বিপুল অর্থ এফডিআর করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সিদ্ধান্ত সামনে আসায় শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে কোন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, কার অনুমোদন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে কী আছে—তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ৪৪ কোটি টাকার এফডিআর নিয়ে প্রশ্ন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করার উদ্যোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে সরকারি তফসিলি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থাকা সত্ত্বেও বিপুল অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন ব্যাংকে কত টাকা রাখা হচ্ছে, ব্যাংক নির্বাচনে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি গভর্নিং বডির কোন সভায় নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, অতীতেও প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে রাখার পর অর্থ উত্তোলনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে রাখা অর্থ নিয়েও সমস্যা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। এরপর সরকারি তফসিলি ব্যাংকে অর্থ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও বেসরকারি ব্যাংকে অর্থ এফডিআর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নাম এসেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, শুধু বেশি সুদের হার পাওয়ার কারণেই ব্যাংক নির্বাচন করা হয়েছে, নাকি এর বাইরে অন্য কোনও বিবেচনাও ছিল। কোন ব্যাংক কত সুদ দিতে চেয়েছে, কত টাকা কত মেয়াদের জন্য রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কমিটির রেজুলেশন কী—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। জানতে চাইলে অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, “৪৪ কোটি টাকা কোনও একটি ব্যাংকে রাখা হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের হার বিবেচনা করেই এফডিআর করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “সঞ্চয়ী হিসাবে এক থেকে দুই শতাংশ লাভ আসে। কিন্তু এফডিআর করলে ঢাকা ব্যাংক ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। অন্য কিছু ব্যাংক সাত শতাংশের মতো দিচ্ছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আট শতাংশের কাছাকাছি দিচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রস্তাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” অগ্রণী ব্যাংকেও অর্থ রাখা হয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, “সেখানে ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেখানে অর্থ রাখা হবে।” গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরু বলেন, “প্রতিষ্ঠানের সব টাকা ঢাকা ব্যাংকে নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, ব্যাংকিং সুবিধা, নিরাপত্তা এবং প্রচলিত নিয়মকানুন বিবেচনা করেই বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।” অভিভাবক প্রতিনিধি নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা ব্যাংকের শাহজাহানপুর শাখার একজন ব্যবস্থাপক দায়িত্ব পালন করছেন—এমন তথ্য সামনে আসার পর এফডিআর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাদের প্রশ্ন, একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধি হলে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্বার্থের সংঘাতের কোনও বিষয় তৈরি হয় কিনা। বিশেষ করে ঢাকা ব্যাংকে অর্থ রাখার সিদ্ধান্তে ওই প্রতিনিধির কোনও ভূমিকা ছিল কিনা, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। কয়েক ডজন শিক্ষক বদলি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন শাখায় সম্প্রতি কয়েক ডজন শিক্ষককে বদলি ও কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের শিক্ষকদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়েছে। কয়েকজন শিক্ষককে বাসা থেকে দূরের শাখায় পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু নারী শিক্ষকের সকাল ও দিবা শিফট পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, প্রশাসনিক প্রয়োজন বা শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক বদলি কিংবা দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকলে শিক্ষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে এবং তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা। অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ জুলাই বর্তমান অ্যাডহক কমিটি গঠনের পরের দিন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক বদলির তালিকা তৈরি করা হয়। তবে অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, “সবগুলোকে বদলি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২৬ জন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। বাকিদের একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সকাল ও দিবা শিফটে দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।” বিএনপির সবুজবাগ থানা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরু বলেন, শিক্ষকদের বদলি নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্মস্থল সমন্বয় করা হয়েছে। কোথাও শিক্ষক বেশি ছিল, আবার কোথাও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট ছিল। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রায় ৪৩ থেকে ৪৪ জন শিক্ষকের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যানের ১৪ লাখ টাকার অফিস! অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যানের জন্য প্রতিষ্ঠানে আলাদা অফিস ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চেয়ারম্যানের জন্য অফিস তৈরি করা হয়েছে। চেয়ারম্যান সেখানে নিয়মিত বসেন এবং তাঁর জন্য ব্যক্তিগত সহকারী বা সহায়ক কর্মী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরু বলেন, কথিত অফিসটি তাঁর ব্যক্তিগত অফিস নয়। এটি আগের কমিটির সময় তৈরি করা গভর্নিং বডির সভাকক্ষ। তিনি বলেন, “যে কক্ষটিকে আমার অফিস হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেটি আমার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে তৈরি করা হয়নি। আগের কমিটির সময়ই কক্ষটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি মূলত গভর্নিং বডির সভা ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত সভাকক্ষ।” অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ বলেন, “এটি বড় কোনও অফিস নয়। ছোট একটি রুম। চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানে এলে বসার জন্য একটি জায়গা থাকা তো ভালো।” শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়েও প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০০ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির সব শিক্ষক-কর্মচারীর মতামত ও স্বার্থ তুলে ধরার কথা। কিন্তু প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের প্রভাব রয়েছে এবং শিক্ষক প্রতিনিধির ভূমিকা নিয়েও সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক শিক্ষক বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসে শিক্ষক প্রতিনিধির অবস্থান কী ছিল এবং গভর্নিং বডিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মতামত কীভাবে উপস্থাপন করা হয়—তা পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে। প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে কারও প্রভাব? প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কোনও পদে না থেকেও একজন ব্যক্তি নিয়মিত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক বদলি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ওই ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে কাজী তৌহিদুজ্জামান তৌহিদের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি একজন ঠিকাদার। আমি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেউ না। একবার অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। আমাকে ফেল করানো হয়েছে। আমি সেখানে নিয়মিত যাই না। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টাও না, পিএসও না।” গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান হিরুকেও কাজী তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ তাঁর পিএস বা উপদেষ্টা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উনি কেন আমার পিএস বা উপদেষ্টা হবেন?” কর্মচারী নিয়োগে সাত দিনের সময় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের জন্য মাত্র সাত দিন সময় দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ ও প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাত দিনের সময়সীমা যথেষ্ট কিনা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিমালা ও প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির দুবারের নির্বাচিত সাবেক অভিভাবক সদস্য মো. শাহাদাৎ ঢালী বলেন, “অ্যাডহক কমিটির কোনও ধরনের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। সে কারণে আগের কমিটির সময়ে প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমান কমিটি কম সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে তড়িঘড়ি করে অবৈধভাবে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে। যেখানে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই, সেখানে আগে থেকেই সিলেক্ট করে রাখা প্রার্থীদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে অভিযোগ আছে, প্রার্থীদের কাছ থেকে বড় সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” নথি প্রকাশের দাবি শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেই হবে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিও প্রকাশ করতে হবে। তাদের দাবি, শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে অনুসৃত মানদণ্ড, কোন ব্যাংকে কত অর্থ রাখা হয়েছে, ব্যাংক নির্বাচন ও এফডিআরের সিদ্ধান্ত, গভর্নিং বডির সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন, চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত কক্ষের নির্মাণ ব্যয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি প্রকাশ করা হলে বিতর্কের প্রকৃত চিত্রও পরিষ্কার হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ডি-ফ্যাব ১৫১ সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা : আসাদুল্লাহ মিয়া সভাপতি নাজমুল হুদা মহাসচিব মনোনীত
সোনারগাঁয়ে জায়গা-জমি বিরোধের সংবাদে নাম জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ভালো ফলের ধারাবাহিকতায় নতুন পরিকল্পনা, পাচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ
কদমতলী থানা প্রেসক্লাব,ঢাকার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
