|
আরো চড়েছে ডিমের দাম, স্বস্তি যা কাঁচা মরিচেই
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() আরো চড়েছে ডিমের দাম, স্বস্তি যা কাঁচা মরিচেই কাঁচা বাজারে স্বস্তি কিছুটা যা ফিরেছে, সেটা কাঁচা মরিচে; ৪০০ টাকা থেকে কমতে কমতে কেজি নেমেছে ২০০ টাকায়। রাজধানীর রায়ের বাজার কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুরের টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে শুক্রবার এসব বাজারে প্রতি ডজন বিক্রি হয় ১৫৫-১৬০ টাকায়। ঢাকার বাজারে ডিমের দাম চড়তে শুরু করে গেল মাসের শুরুর দিকে। গেল ১০ জুলাই ফার্মের প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা। এর এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। ১৩০ থেকে পরের সপ্তাহে ১৪০ টাকায় ওঠে প্রতি ডজন ডিমের দাম। এরপর বেড়ে হয় দেড়শ টাকা, যা এখন ঠেকেছে ১৬০ টাকায়। খামারিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের হাত থেকে খুচরা ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জের খামারি শাহীন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “লাল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। আর সাদাটা ৯ টাকা ৫০ পয়সা।” তার হিসাবে, খামারি পর্যায়ে এক ডজন লাল ডিমের দাম পড়ছে ১২৬ টাকা। বৃহস্পতিবার আগাঁরগাওয়ে বিএনপি বাজারে ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “তেঁজাগাও আড়তে ডিমের দাম বেশি। “একশ লাল ডিম কিনতে ১১৫০ টাকায় দিতে হয়; ডজন পড়ছে ১৩৮ টাকা। আমরা খুচরা বিক্রি করছি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।” টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আহমদ মিয়া বলেন, তারা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনছেন। আর্থাৎ, এই খুচরা ব্যবসায়ীর প্রতি ডজনে কেনা পড়েছে ১৪৬ টাকা ৪০ পয়সা। চাহিদা বাড়ায় ডিমের দাম চড়েছে বলে মনে করেন তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “উৎপাদন ঠিক ছিল। চাহিদা বাড়ছিল। বর্ষায় শাক-সবজি মার খাইছিল। এজন্যই ডিমের দামটা একটু বেশি ছিল। আর বাড়বে না; কমবে।” খামারি থেকে খুচরা বাজারে আসতে প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এটা বেশি না। তিন চার ধাপ পার হয়ে বাজারে আসে। ৫ থেকে ১০ টাকা তো লাভ করতে হবে।” ডিমের দাম বাড়লেও তার সুফল না পাওয়ার অভিযোগ খামারিদের। শাহীন মিয়া বলেন, “আমাদের কোনো লাভ নেই। সাভার ও তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম ঠিক করে। “তারা মেসেজের মাধ্যমে কয়েক দিন কমায়। আমাদের কাছ থেকে কিনে জমা করে। পরে তারাই ডিমের দাম বাড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে। এদিকে আমাদের খরচ ওঠে না। তারা কিছুই করে না; উৎপাদন করে না; খাবার-ওষুধ কিনে না। সব খরচ খামারিদের। কিন্তু লাভটা যায় সিন্ডিকেটের পকেটে।” চলতি মাসে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ভারত থেকে আমাদানি বাড়ায় কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। মধ্যে। তবে শুক্রবার আরো কমে নেমেছে ২০০ টাকায়। সাদেক খান কৃষি মার্কেটে পাইকারিতে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এ বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. ছালাম গণমাধ্যমকে বলেন, “দেশের বাইরে থেকে মরিচ আসায় দুই সপ্তাহ ধরে দাম কমছে। সামনে আরো কমতে পারে। “তবে ভারত থেকে আসা মরিচের চেয়ে দেশি মরিচের দাম একটু বেশি। কারণ ভারতের মরিচ আকারে ছোট; ময়লাও আছে।” সরবরাহ ঘাটতির কথা শোনা না গেলেও সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দাম আছে গেল সপ্তাহের মতোই; বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ টাকার উপরে। এদিন বাজারে লম্বা আকৃতির বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা। গোল বড় বেগুনের কেজি আরো বেশি ১৫০-১৬০ টাকা। বরবটি ও করলা কেজি ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া শসার কেজি ৮০ টাকা; ঢেঁড়স ও পটল ৫০ থেকে ৬০ এবং ৩০ থেকে ৪০ টাকা ছিল পেঁপের কেজি। একেকটি চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আড়তে সবজি বেড়েছে। দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু এখনো আড়তে দাম বেশি। বেশির ভাগের কেজিই ৮০ টাকার উপরে।” দামে একটু স্বাস্তি পেতে সাপ্তাহিক বাজার করতে শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে আসেন মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার বাসিন্দা সাইফুল হক জেলিড। তিনি বলেন, “কয়েক সপ্তাহ ধরে শাক-সবজির দাম বেশি ছিল; মুরগির দামও বেশি। এজন্যই ডিম একটু বেশি কেনা হয়। “কিন্তু ডিমেরও দাম বেড়ে গেছে। ৪০ টাকার ডিম এখন ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।” দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম স্থির রয়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এদিন কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে এক পাল্লার (পাঁচ কেজি) দাম ছিল ১৩০ টাকা। গত শুক্রবার খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে আরো ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এই সপ্তাহেও একই দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে কারওয়ান বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আগের মতোই সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
