সম্পতি মোহাম্মদ ফয়েজ নামের এক পাকিস্তানি বিমান বানিয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন। একজন পপকর্ন বিক্রেতা কীভাবে বিমান তৈরি করে এমন ঘটনায় চমকে যায় বিশ্ব।
তবে বিশ্বকে চমক দেখানো মোহাম্মদ ফয়েজের জন্য অপেক্ষা করছিল আরেক চমক। তবে অবশ্যই সেটা অনাকাঙ্খিত।
গত ৩১ মার্চ বিমানটি নিয়ে একটি খোলা মাঠের আকাশে পরীক্ষামূলক চক্কর দিচ্ছিলেন ফয়েজ। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে স্থানীয় থানায় নিয়ে যায় পাঞ্জাব পুলিশ। জব্দ করা হয় তার বিমানটি।
এ ঘটনায় পাকিস্তানে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে ফয়েজের গ্রেফতার হবার বিষয়টি।
টাইমস অব ইসলামাবাদ জানিয়েছে, অনুমতি না নিয়ে আকাশে বিমান ওড়ানোয় মোহাম্মদ ফয়েজকে ৩ হাজার রুপি জরিমানা করেছে পাঞ্জাব আদালত।
এ জরিমানা শাস্তি দিয়ে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিমানটি পরীক্ষা করবে শর্তে ফয়েজকে ফিরিয়ে দেয় তার বিমান।
বিমান পেয়ে ফয়েজ খুশি হলেও তিনি টাইমস অব ইসলামাবাদকে জানিয়েছেন, নিজের মেধা, শ্রমকে কাজে লাগিয়ে পপকর্ন বিক্রি করা সঞ্চয় দিয়ে আমি বিমানটি তৈরি করেছি। এটি ১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এ বিমান তৈরিতে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার রুপি ঋণও নিয়েছি। অথচ আমার এই কাজের প্রশংসা না করে উল্টো জরিমানা করা হলো। হাজতে নিয়ে গেল।
এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন সংস্থার বিশেষজ্ঞ নাসীম আহমেদ বলেন, এখানে অনুমোদনের বিষয় আছে। এটা তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই। আল্লাহ না করুক বিমান যদি কোনো ভবনের সংঘর্ষ হয় তাহলে কী হবে? অজ্ঞতা কখনো অজুহাত হতে পারে না।
পপকর্ন বিক্রেতা ফয়েজ একজন নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, একজন নিরাপত্তা রক্ষী নিজেও বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝবেন যে, কেন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এসব কথায় মনযোগ নেই ফয়েজের। তিনি দাবি করেন, সরকার আমাকে সাহায্য করলে আমি আরও বড় বিমান তৈরির প্রজেক্টে হাত দিতে পারি।