ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: Sunday, 9 August, 2026, 6:05 PM

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কতিপয় দলিল লেখক ও দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে অনিয়ম করা হচ্ছে। এতে একদিকে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া কম মূল্যে দলিল প্রদর্শন করে নিবন্ধন ফি ও কর কমিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ, জমির প্রকৃত শ্রেণি বা তথ্য গোপন রেখে বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সুবিধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কম রাজস্ব আদায়ে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দলিল অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পাদন করা হলেও সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের বিভিন্ন অজুহাতে অপেক্ষা করানো হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করলে অনেক জটিলতাই দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।

অধস্তন কর্মচারী, নির্দিষ্ট দলিল লেখক এবং দালালদের মাধ্যমে একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে দাবী করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

একাধিক সূত্রের দাবি, কাগজপত্রে ত্রুটি থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ দলিল অনেক সময় নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে নিষ্পত্তি করা হয়।

 বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে,  দুপুরের বিরতিতে খাসকক্ষে কিংবা অফিস সময় শেষে অলকা নদী বাংলা মার্কেটের সাথে ফুলের দোকানের গলির ভিতরে তাঁর ব্যাক্তিগত চেম্বারে বসে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

আইনজ্ঞদের মতে, যদি এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এবং প্রচলিত নিবন্ধন আইন লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইন মনিটরিং, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত ফি প্রকাশ এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

এসকল অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি, তবে মৌখিক বক্তব্যে এসকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এবিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন এর আগে এমন অভিযোগ পাইনি, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখব।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওনার নামে আরও কয়েকজন এমন অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status