গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামান স্কুল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সেখানকার পিঞ্জুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ সিকদার।
শনিবার সকালে উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আর এই স্কুল ভেঙে দেয়ার ফলে তিন শত শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামানের ছেলে কামরুজ্জামান বলেন, ২০০৫ সালে আমি কাকডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে আমার বাবার নামে একটি স্কুল স্থাপন করি। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটিতে পাঠদান করানো হয়। বর্তমানে স্কুলটিতে তিন শত ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শনিবার সকালে হঠাৎ করে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ সিকদার তার লোকজন নিয়ে এসে স্কুলঘরটি ভেঙে ফেলে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামানের স্ত্রী জয়নাব বিবি বলেন, জীবন বাজি রেখে আমার স্বামী যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছিল। সেই বীর যোদ্ধার নামে স্কুলটি শনিবার চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে ভেঙে ফেলল। আমি সরকারের কাছে এর উপযুক্ত বিচার চাই।
স্কুলটির অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সোয়ামনি, সোহাদা খানম, হুমায়রা খানম বলে, 'বর্তমানে আমাদের মাসিক পরীক্ষা চলে। এ সময় হঠাৎ করে আমাদের স্কুলটি ভেঙে ফেলা হলো। আমরা এখন কীভাবে লেখাপড়া করব?
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবু সাইদ সিকদার বলেন, জায়গাটি পিঞ্জুরী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। উল্লিখিত জায়গাটির স্থলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ হবে। বছরের শুরু থেকে কামরুজ্জামানকে ঘরটি সরিয়ে নিতে বলা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি সরিয়ে নেননি। আগামী জুনের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ না করলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে যাবে। উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা থেকে ঘরটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে তাই আমি সরিয়ে ফেলেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষাগ্রহণ করাটা ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার কেউ হরণ করতে পারে না। স্কুল ভাঙার বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।