|
জুলাই-নেতাদের যত বিভাজন, নেপথ্যে কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() জুলাই-নেতাদের যত বিভাজন, নেপথ্যে কী? সে সময় যে যার অবস্থান থেকে আন্দোলনে শরিক হলেও সবার লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতন। ওই বছরের ৫ আগস্ট তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ দলটির শীর্ষ নেতারা। জুলাইয়ের পর কয়েক মাস মাঠ পর্যায়ে মোটামুটি ঐক্যবদ্ধ ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শরিক সংগঠনগুলো। তখন যেকোনও কর্মসূচিতে জুলাইয়ের শক্তি হিসেবে তারা একই প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য রেখেছেন। একপক্ষ আক্রমণের শিকার হলে অন্যরাও এগিয়ে আসতো। জুলাইয়ের ছাত্র নেতৃত্ব থেকে প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও পরবর্তীকালে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। তবে সময়ের ব্যবধানে সে চিত্র পাল্টেছে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণে সেই ঐক্যে চির ধরেছে। জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক এসব সংগঠনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। নেতৃত্ব ও আদর্শিক বিরোধ থেকে আলাদা হয়ে অনেকে ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। জুলাইকে ধারণ করে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন তৈরি হলেও ইতোমধ্যে এসব সংগঠনেও ভাঙন ধরেছে। তারা ভিন্ন জায়গা থেকে জুলাইয়ের শক্তি হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এর বাইরেও গড়ে ওঠেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। স্বার্থের দ্বন্দ্বে একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। এতে করে এসব সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দেহ পোষণ করছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘যেকোনও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ ধরনের সংগঠন গড়ে ওঠে। তবে এতে সংশ্লিষ্টদের একেক জনের একেক লক্ষ্য থাকতে পারে। জুলাই আন্দোলনের পরও এমন বেশ কিছু সংগঠন দেখা যাচ্ছে। আবার একটি সংগঠন ভেঙে আরেকটা হচ্ছে। এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক। তারা আদর্শচ্যুত হলে তো বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।’’ কীভাবে চলছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও পরিবারগুলোর সহায়তায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গঠন হয় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি ও শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের জমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এ কমিটির ঘোষণা দেন। সাত সদস্যের এ ফাউন্ডেশনটি সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধনভুক্ত। তখন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাত সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদকে ২৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীকালে এ কমিটিতে আংশিক পরিবর্তন করে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলমকে সাধারণ সম্পাদক ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে প্রধান নির্বাহী করা হয়। শুরুতে এ সংগঠনের মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। তবে সেই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়েও নিজেদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি এই সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দেন সারজিস আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন—‘‘যতদিন পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ সময় ফাউন্ডেশনে দিতে পেরেছি, ততদিন আমি দায়িত্ব পালন করেছি। যখন মনে হয়েছে, এখন থেকে ফাউন্ডেশনে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া আমার জন্য সম্ভব হবে নয়, তখন আমি দায়িত্ব থেকে সরে এসেছি। আমার কাছে নিজের সীমাবদ্ধতা অ্যাড্রেস করা এবং সে অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণ বা ত্যাগ করা কোনও দূর্বলতা নয় বরং এটাতে সৎ সাহস লাগে।’’ বর্তমানে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর। গত ২৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের তীব্র আর্থিক সংকটের কথা জানান তিনি। ফাউন্ডেশন পরিচালনায় খোলা ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে এক লাখ টাকার কম আছে। সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের সব সদস্যের এক মাসের বেতন ফাউন্ডেশনকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে ৩৫ সংগঠনের জোট ‘জুলাই ঐক্য’ বিভিন্ন মতাদর্শের ৩৫টি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন মিলে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এসব সংগঠন বেশিরভাগই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বের হয়ে আসা নেতাকর্মী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জোটের নেপথ্যে শিবির নেতারা রয়েছেন। গত ৬ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরে গণহত্যার বিচারসহ কিছু দাবি জোরালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি রাফে সালমান রিফাত, বাংলা বিভাগের মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ, ইসলামিক স্টাডিজের ছাত্র এ বি জুবায়ের এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ‘জুলাই ঐক্য’ জোটে রয়েছে আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট কোয়ালিয়েশন, জুলাই রেভুলুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স, জুলাই রেভুলুশনারি অ্যালায়েন্স, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-পুনাব, স্টুডেন্ট এলায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ, একতার বাংলাদেশ, রক্তিম জুলাই, সোচ্চার, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই, এইচআরএসএস, জুলাই বিগ্রেড, স্টুডেন্ট রাইট ওয়াচ, পিপলস অ্যাকটিভিস্ট কোয়ালিশন, আজাদ ফিলিস্তিন। পদত্যাগ-বহিষ্কারে এনসিপিতেও বিভাজন জুলাই আন্দোলনের আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ৫ আগস্টের পর প্রথমে গঠন করা হয় জাতীয় নাগরিক কমিটি। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করে আত্মপ্রকাশ ঘটে রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। জুলাই আন্দোলনের নেতাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা হওয়ায় শুরুতেই আলোচনায় আসে সংগঠনটি। নির্বাচন কমিশনের থে নিবন্ধনও পেয়েছে দলটি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে দলটি। তবে শুরু থেকেই এনসিপিতে দেখা দেয় অস্থিরতা। মতবিরোধের কারণে এনসিপি থেকে সরে গেছেন উল্লেখযোগ্য নেতা। বড় ধরনের পদত্যাগের ঘটনা ঘটে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে। মূলত জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তের কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পদত্যাগের হিড়িক পড়ে তখন। মতাদর্শগত কারণে তারা এ দলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এমন ঘোষণা দেন অনেকে। কয়েকজন দলে থাকলেও নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। আবার একই কারণ দেখিয়ে নির্বাচনের পরেও সরে গেছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পদত্যাগ করেন— যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা ডা. তাজনূভা জাবিন, ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ, হাসান আলী, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম প্রধান সংগঠক ইমান সৈয়দ, কৃষক বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আজাদ খান ভাসানী এবং সর্বশেষ গত ১৮ মে বিকালে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম। যদিও সেদিন মধ্যরাতে পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাকে বহিষ্কারের কথা জানায় এনসিপি। কেন্দ্রীয় নেতাদের বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতাও দল থেকে চলে যান। আবার অনেকে বহিষ্কৃত হন। এনসিপির সাবেক নেতাদের ভিন্ন তৎপরতা এনসিপি থেকে চলে যাওয়া নেতাদের কেউ কেউ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন। আবার কেউবা নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ ও তার স্ত্রী দলের যুগ্ম সদস্য সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া ডা. তাসনিম জারা এখনও পর্যন্ত কোনও দলে যোগ দেননি। তাসনিম জারা গত নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় অর্ধলাখের মতো ভোট পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘‘দলে বিভাজন নেই। তবে মতবিরোধ থেকে অনেকে চলে গেছেন, আবার কেউ কেউ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছে। এনসিপি জুলাইয়ের আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’’ মাহফুজ আলমের ‘অল্টারনেটিভস’-এ কারা? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় নতুন রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভস’। সেখানেও বেশিরভাগ নেতা এনসিপি ছেড়ে আসা। তারাও জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৬ সালের ৬ মার্চ রাতে যাত্রা করা এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এনসিপিন তিন সাবেক নেতাও রয়েছেন। তারা হলেন— তাজনূভা জাবীন, রায়হানুর রহমান (রাবি) ও মোহাম্মদ এরফানুল হক। সামনে আসার আগেই নিষ্প্রভ ‘আপ বাংলাদেশ’ সাবেক শিবির নেতাদের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ৯ মে আত্মপ্রকাশ ঘটে ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) নামের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের। তারাও ছিলেন এনসিপির আগের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটিতে। আবার শেষ পর্যন্ত এর শীর্ষ নেতারাও যোগ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি)। বর্তমানে ‘আপ বাংলাদেশ’ রাজনীতিতে তেমন আলোচনায় নেই। দলীয় নেতাদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, পদত্যাগ ও বহিষ্কারে অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এই সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেন তিন শীর্ষ নেতা। তারা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের দুই সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। আরও যোগ দিয়েছেন মিডিয়া সমন্বয়কারী শাহরিন সুলতানা ইরা। ক্বওমি শিক্ষার্থীদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই জোট’ বিগত দিনে জুলাইভিত্তিক অন্যান্য সংগঠনে বিচ্ছিন্নভাবে থাকলেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতা সম্প্রতি নিজেরা গঠন করেছেন নতুন প্ল্যাটফর্ম 'জুলাই জোট'। মূলত তারা ক্বওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সংগঠনটির সভাপতি মো. মাবরুরুল হক, আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জামিল সিদ্দিকী। সংগঠনের দফতর সম্পাদক সাজিদ আব্দুল্লাহ বলেন, তারা এক বছর আগে থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে তারা এ সংগঠন গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে জুলাই নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্বওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ছাত্রদের নেতৃত্বে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে। তারা বাংলাদেশ ও ইসলাম পন্থাকে ধারণ করে সামনে এগুতে চান। বৈষম্য থেকে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র আত্মপ্রকাশ জুলাই চেতনাকে ধারণ করে ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ নামের সংগঠন। এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মো. আল মিরাজ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারদের কল্যাণ ও অধিকার আদায়ে এই সংগঠনটি কাজ করছে। জুলাই মাসে বিভিন্ন জাতীয় সম্মেলন ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি সংগঠটির নেতাদের। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ নামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রাথমিকভাবে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়। শুরুতে জুলাই ফাউন্ডেশনের বিষয়ে নানা অভিযোগ তোলেন শহীদ পরিবারের সদস্য। তারা বলেন, বিগত দিনে জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহতরা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। অথচ বিভিন্ন সংগঠনের নামে সরকারের কাজ থেকে সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এত দিন তেমন কোনও তৎপরতা দেখা না গেলেও সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়েছে সংগঠনটি। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেন এই বিভাজন? জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংগঠনের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। এ কারণেই একের পর এক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হচ্ছে। একটি সফল আন্দোলনের দুই বছরের মাথায় এমন বিভেদ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে। আসলে কেন এমনটি হচ্ছে? এর নেপথ্যে আর্থিক না ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সে প্রশ্নও ওঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘‘জুলাইয়ের পর কিছু ক্ষেত্রে উগ্র দক্ষিণ পন্থার উদ্ভব ঘটেছে। তারা তাদের নিজস্ব সুবিধা আদায় করতে গিয়ে নানা অনৈতিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের সংখ্যাটাই বেশি। আবার কেউ কেউ সব সময় বৈষম্যের বিপক্ষে কথা বললেও আসলে তারা ন্যায়ের ধারেকাছেও নেই। তাই ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেছে।’’ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে হলেও, কতিপয় ব্যক্তি এর নাম ভাঙ্গিয়ে নামে-বেনামে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কেউ কেউ হয়তো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে আলাদা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলছে। এগুলো জুলাইয়ের আদর্শ নয়, ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক।’’ সামনে কী হতে পারে? জুলাই আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভাজন ও বিষোদগারের কারণে এক সময় জুলাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠতে পারে বলে মনে করেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘‘জুলাইয়ে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যের কারণে বিপ্লব সম্ভব হয়েছে। তাই সেই ঐক্য ধরে রাখা জরুরি। কিন্তু নিজেরা বিরোধে জড়ালে এর পরিণতি কারও জন্যই সুখকর হবে না। আমরা মনে করি, সবাইকে জুলাইয়ের আদর্শ সমুন্নত রাখা জরুরি।’’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা শহীদ হয়েছেন। তাই কোনোভাবে যেন তাদের ত্যাগের অবমূল্যায়ন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনও বিষয়ে মতবিরোধ যেন বিভাজনে না ঠেঁকে, সে বিষয়টি মাথা রাখতে হবে। না হয় আবারও ফ্যাসিস্টরা মাথাচাড়া উঠতে পারে।’’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
