|
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ছয় মাস না পেরোতেই খালের গর্ভে সিসি ব্লক ও গাইডওয়ালের বড় অংশ বিলীন
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
|
![]() খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ছয় মাস না পেরোতেই খালের গর্ভে সিসি ব্লক ও গাইডওয়ালের বড় অংশ বিলীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তবলছড়ি ইউনিয়নের ডাকবাংলা-কদমতলী সড়ককে তৈলাফাং খালের ভাঙন থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক ও গাইডওয়াল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম হেলাল উদ্দিন জানান, এই সড়ক দিয়ে কয়েকশ পরিবার নিয়মিত চলাচল করে। একই সঙ্গে তবলছড়ি খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল এবং বিজিবির একটি বিওপিতে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। তার অভিযোগ, দুর্বল নকশা ও পরিকল্পনার কারণেই এত দ্রুত প্রকল্পটি ধসে পড়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান। স্থানীয়দের ভাষ্য, তৈলাফাং খালের ভাঙনে প্রতিবছরই খাদ্যগুদাম, হাসপাতালসহ আশপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকার একমাত্র সড়কটি হুমকির মুখে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশায় তারা প্রকল্পটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এটি ধসে পড়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধর্মজ্যোতি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অসীম দেওয়ানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবলছড়ি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আব্দুর রহিম মজিবুর বলেন, খাদ্যগুদামে যাতায়াতের একমাত্র সড়কের অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পুরো সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিজাইন) আহমেদ রফিক বলেন, সিসি ব্লক ও স্লোপের নির্মাণকাজ ঠিক থাকলেও প্রাথমিকভাবে এটি নকশাগত (ডিজাইন) ত্রুটিজনিত সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই ধসে পড়ার ঘটনা উন্নয়নকাজের মান, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মানসম্মত নির্মাণ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
বাগমারায় ১০০ দিনে অপরাধ দমনে সক্রিয় ওসি জিল্লুর রহমান
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ২ এবং ১১ জন আটক
পাইকগাছায় ভেঙে পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক: প্রাথমিক বিদ্যালয় কক্ষে চলছে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম!
ধর্ষণের শিকার শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন
