|
ভুলে ভরা টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ভুলে ভরা টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটিতে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়। টাইব্রেকারে মরক্কো জিতে যায় ৩-২ গোলে। অথচ নির্ধারিত সময়েই বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা দলটি পিছিয়ে ছিল ৯০ মিনিট পর্যন্ত। অনাগত সন্তানকে হারানোর শোক সঙ্গী করে ম্যাচটি খেলতে নামা কোডি গাকপো ৭২তম মিনিটে এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসকে। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করার জন্য এই দিনটিকেই বেছে নেন ইসা জিওপ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে ফ্রান্সের হয়ে খেলা সেন্টার ব্যাক গত মার্চে অনুমতি পান মায়ের দেশ মরক্কোর হয়ে খেলার। তার হেডের গোল দলকে রাখে জিইয়ে। এরপর টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস নাটক। যেখানে শেষ হাসি মরক্কোর। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নয়নাভিরাম মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা দুই দলই করে গতিময়। তবে তৃতীয় মিনিটে নেদারল্যান্ডস কর্নার পেলেও কোনো দলই প্রথম ১৫ মিনিটে বিপজ্জনক হতে পারেনি। খুব উত্তেজনাও ছড়ায়নি। বেশ কয়েকটি জোরাল ট্যাকল অবশ্য হয় এই সময়ে। আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে দুই দলই। ষষ্ঠদশ মিনিটে প্রথম সত্যিকারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। মরক্কোর হাই-লাইন রক্ষণ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন ক্রেসেন্সিও সমারভিল। তবে বল হারান বক্সে ঢুকে। অফসাইডও ছিলেন তিনি। মরক্কোর জবাবও আসে দ্রুতই। মিনিট চারের পর টানা দুটি দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন ডাচ গোলকিপার। ২০তম মিনিটে কর্নার থেকে নেইল এল আয়নাউইয়ের জোরাল শটে অসাধারণ রিয়্যাকশন সেভ করেন গোলকিপার বার্ট ভেরব্রাখেন। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আশরাফ হাকিমির ডান পায়ের গোলাও ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটনের গোলকিপার। হাইড্রেশন বিরতির পর দুই দলই বেশ আঁটসাঁট ফুটবল খেলে। পরের ২০ মিনিটে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ৪৪তম মিনিটে নেদারল্যান্ডসের মিকি ফন দে ফেনের দূরপাল্লার শট কোনোরকমে আঙুলে ছুঁইয়ে ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বোনু। যোগ করা সময়ে দারুণ কয়েকটি আক্রমণ করে মরক্কো। আজেদিন উনায়ির শট একটুর জন্য ওপর দিয়ে চলে যায়। হাকিমির দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোলের খুব কাছ থেকে অল্পের জন্য বলে স্পর্শ করতে পারেননি ইসমায়েল সাইবারি। মাঝবিরতির পর ষষ্ঠ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হাকিমি। উনায়ির দারুণ এক পাস থেকে বক্সের ভেত ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন মরক্কো অধিনায়ক। কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে চলে যায় ওপর দিয়ে। একটু পরই আবার তুমুল গতিতে বক্সে ঢুকে যান হাকিমি। দুর্দান্ত ট্যাকল করে রক্ষা করেন ফন দে ফেন। ৫৮তম মিনিটে বিলাল এল কানুসের শট সহজেই ধরে ফেলেন ভেরব্রাখেন। ৬১তম মিনিটে বাঁদিক থেকে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে শট নেন সাইবারি, ব্লক করে দেন ভার্জিল ফন ডাইক। কর্নার থেকে বল জালে ঢোকার মুহূর্তে ভেরব্রাখেনের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর টানা আরও চারটি কর্নার পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি মরক্কো। এর একটু পরই এগিয়ে যায় ডাচরা। বল নিলে গুলির বেগে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে মরক্কোর দুই ডিফেন্ডারকে এড়াতে গিয়ে বক্সে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে কোনোরকমে বল বাড়ান পাশে। ছুটে এসে গাকপো জোরাল শটে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জড়ান জালে। গোল করে মাটিতে নুইয়েই থাকেন গাকপো। সতীর্থরা এসে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার ওপর। পরে যখনন উঠে দাঁড়ালেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড, তার চোখে তখন টলমল করছিল জল। চেষ্টা করলেন জার্সিতে মুখ ঢেকে তা আড়াল করতে। এরপর ডাচরা মন দেয় রক্ষণ সামলাতো। মরক্কো চেষ্টা করে সমতা ফেরাতে। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। প্রথম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তারা। বদলি নামা শেমসদিন তালবি নিখুঁত এক ক্রস করেন বক্সের মাঝখানে। ফন ডাইকের পেছন থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেডে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন জিওপ। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করেন ভেরব্রাখেন। বদলি নামা সুফিয়ান রাহিমি বক্সে কাট ইন করে দুই ডিফেন্ডারকে বিভ্রান্ত করে জোরাল শট নেন কাছ থেকে। কিন্তু ডাচ গোলকিপারের বাড়ানো পায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
