|
বেসরকারি হাসপাতাল আদ-দ্বীন বন্ধ সত্যিই কি সমাধান?
মহিউদ্দিন আহমেদ
|
![]() বেসরকারি হাসপাতাল আদ-দ্বীন বন্ধ সত্যিই কি সমাধান? দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সরকারি হাসপাতাল সমূহের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি কলাম লিখে দাও বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ—সমাধান নাকি সংকট? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে—বেসরকারি হাসপাতাল, বিশেষ করে আদ-দ্বীন-এর মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেই কি স্বাস্থ্যসেবার সংকটের সমাধান হবে? এই প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। বরং বাস্তবতা হচ্ছে, এটি একটি জটিল কাঠামোগত সমস্যার অংশ, যার সমাধান “বন্ধ” নয়, বরং “সংস্কার”। প্রথমেই সরকারি হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্র দেখা দরকার। রাজধানীর Dhaka Medical College Hospital কিংবা Bangladesh Medical University—এই প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রতিদিনের বাস্তবতা হলো রোগীর চাপ, বেড সংকট, চিকিৎসক-নার্সের স্বল্পতা এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন। একটি ১০০০ বেডের হাসপাতালে প্রায়শই ২০০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন—এটাই এখন স্বাভাবিক দৃশ্য। শুধু রাজধানী নয়, জেলা পর্যায়ের ২৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোতেও একই চিত্র। সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়েই বড় শহরে ছুটছেন। এই বাস্তবতার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলো একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠেছে। আদ-দ্বীন-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও মানবিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যদিও সব বেসরকারি হাসপাতাল একই মান বজায় রাখে না। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যবসায়িক মানসিকতার অভিযোগও রয়েছে—এগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যদি একটি বেসরকারি হাসপাতালের ত্রুটি থাকে, তার সমাধান কি সেটিকে বন্ধ করে দেওয়া? তাহলে একই যুক্তিতে সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার জন্য কি সেগুলোকেও বন্ধ করতে হবে? বাস্তবতা হলো, স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার, এবং এই খাতে “বন্ধ” নয়, বরং “উন্নয়ন”ই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমন্বয়ের অভাব। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো না থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো কখনো কখনো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, আবার সরকারি হাসপাতালগুলো জবাবদিহিতার বাইরে থেকে যায়। সমাধান কী? প্রথমত, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু অবকাঠামো নয়, মানবসম্পদ—চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান—তৈরি ও ধরে রাখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তৃতীয়ত, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগীদের ঢাকামুখী চাপ কমে। চতুর্থত, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সবশেষে বলা যায়, একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়—এটি কেবল একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া। প্রকৃত সমাধান হলো একটি সমন্বিত, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই জনগণের সেবায় কাজ করবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো পণ্য নয়—এটি একটি অধিকার। আর এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ধ্বংস নয়, সংস্কারই হতে হবে প্রধান পথ। লেখক : মহিউদ্দিন আহমেদ আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ফুলবাড়ীতে ৫ম শ্রেণির শিশুশিক্ষার্থীর ব্যাগে ২ কেজি গাঁজা, সৎ ভাইসহ আটক ২
আলফাডাঙ্গায় প্রান্তিক খামারীদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ করল ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি)
কুড়িগ্রাম শহরে মাদক বিরোধী সচেতনতা কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
তেঁতুলিয়ায় মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
