বি.এস জরিপ শেষ, শেষ হয়নি ভোগান্তি; দুই দশক পরও নেই সমাধান
সবুজ ইসলাম, রাণীশংকৈল
প্রকাশ: Saturday, 13 June, 2026, 11:13 AM
বি.এস জরিপ শেষ, শেষ হয়নি ভোগান্তি; দুই দশক পরও নেই সমাধান
মাঠপর্যায়ে ভূমি জরিপের কাজ শেষ হয়েছে বহু আগেই। প্রকাশিত হয়েছে নতুন খতিয়ান, প্রস্তুত করা হয়েছে জমির ম্যাপও। এক কথায়, বি.এস (B.S.) জরিপের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও শেষ হয়নি ভূমি মালিকদের দুর্ভোগ। বরং জরিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের ঘাটতির কারণে বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২০০৬-০৭ সালে পরিচালিত বি.এস জরিপে ১৬টি মৌজায় ত্রি-সীমানা (মৌজা) পিলার স্থাপন ছাড়াই জরিপের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে জমির সীমানা নির্ধারণ ও পরিমাপ নিয়ে নানামুখী জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।জানা যায় একেকটি মৌজায় ত্রি সীমানার পিলার ৫/৭ টি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটিও নেই।
স্থানীয়দের দাবি, জমির সঠিক অবস্থান ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে এবং ভূমি মালিকদের মধ্যে বিরোধ এড়াতে ত্রি-সীমানা পিলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বনগাঁও, ভোলাপাড়া ও মহেষপুরসহ বিভিন্ন মৌজায় এসব পিলার স্থাপন করা হয়নি। এতে জমি মাপজোকের সময় আমিন ও জরিপকারীদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বনগাঁও মৌজার কৃষক শরিফুল ইসলাম ও ফারুক আহামেদ বলেন, ত্রি-সীমানা পিলার না থাকায় জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করতে অনেক সময় লাগে। প্রায়ই জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।যা আদালত পর্যন্ত দৌড়ায়।
উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬-০৭ সালে উপজেলার ১৬টি মৌজায় একযোগে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় কৃষক এনামুল হক বলেন, আমাদের এলাকায় মৌজা পিলার না থাকায় সঠিকভাবে জমি মাপজোক করানো সম্ভব হয় না। যে কাজ একদিনে শেষ হওয়ার কথা, তা অনেক সময় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত লেগে যায়। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেটেলমেন্ট অফিসের এক কর্মচারী জানান, জরিপের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পিলার স্থাপন করা হয়নি। বাস্তবে অধিকাংশ মৌজাতেই ত্রি-সীমানা পিলারের অস্তিত্ব দেখা যায় না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মতিউর রহমান নামের এক কৃষক ল বলেন, সেটেলমেন্ট অফিসের গাফিলতির কারণে আজ আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।
স্থানীয় ভূমি জরিপকারকদের ভাষ্য,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি পরিমাপের সময় ত্রি-সীমানা পিলার না থাকায় সঠিক সীমানা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আইয়ুব আলী বলেন, “কাগজে-কলমে ত্রি-সীমানা পিলার স্থাপনের তথ্য রয়েছে এবং সে অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে। তবে বর্তমানে যেসব এলাকায় পিলার নেই, সেসব এলাকার বাসিন্দারা আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।