ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২৬ ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নূর জাহান বেগমের মৃত্যু নিয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ছেলে যা বললেন
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 4 June, 2026, 12:04 PM

রাজধানীর মিরপুরের এই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মারা গেছেন ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগম।

রাজধানীর মিরপুরের এই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মারা গেছেন ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগম।

ঈদের দিন বিকেলে খাবার রান্না করে নিয়ে পরিবারসহ মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। মায়ের সময়জ্ঞান তেমন ছিল না। মোবাইলেও সময় সেভাবে দেখতে পারতেন না। তাই একটি দেয়ালঘড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম, দেয়ালে তা টাঙানো হয়। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান। তিনি রাজধানীর মিরপুরের বাসায় মারা যাওয়া প্রবীণ নারী নূর জাহান বেগমের ছোট ছেলে।

নূর জাহান বেগমের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। তাঁর এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব। আজ বুধবার দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী  বলেন, এ ঘটনায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরে বিকেলে ওই যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর মধ্যে দুপুরে  ফোন করেন নূর জাহান বেগমের ছোট ছেলে অধ্যাপক আশিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে আজ তিনি তাঁর নাম, পরিচয় প্রকাশ করতে আপত্তি জানাননি।

আশিকুর রহমান  বলেন, মা মারা যাওয়ার পর আমরা এমনিতেই মানসিক ট্রমার মধ্যে আছি। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নিয়ে নানা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, এতে আমরা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছি।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে থাকতেন। মেয়ের ফ্ল্যাটেই মারা যান। তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওই বাসার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নূর জাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। নূর জাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখেছেন।

আশিকুর রহমান জানান, তাঁদের বাবা মো. আবুল কাশেম বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) চাকরি করতেন। ২০০৮ সালে তিনি মারা যান। আর বোন ফাতিমা নাসরীনের স্বামী মারা গেছেন ২০১৭ সালে। তাঁর কোনো ছেলেমেয়ে নেই। সে কারণে বাসায় মা–মেয়ে দুজনই থাকতেন।

অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, মা মারা যাওয়ার পর থেকে অনেকেই বলছেন, ছেলেমেয়েরা মাকে দেখভাল করেননি। বিষয়টি সত্য নয়।

আশিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালে মাকে তিনি নিজের কাছে নিয়ে আসেন। ২০১১-২০১২ সালে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, তখন তাঁর শাশুড়ির বাসায় মাকে রেখেছিলেন। ২০১৩ সালে আবার নিজের কাছে আনেন। মা মাঝেমধ্যে চাঁদপুরের মতলবে নানাবাড়িতে গিয়েও থাকতেন। ২০২০ সালে করোনার সময় মায়ের করোনার চিকিৎসা করান।

২০২৪ সাল থেকে মা তাঁর বোনের সঙ্গে থাকছিলেন জানিয়ে আশিকুর রহমান বলেন, তাঁর মায়ের মধ্যে সবকিছু নিয়ে সন্দেহ করার প্রবণতা ছিল। অনেকটা সিজোফ্রেনিয়ার সঙ্গে মেলে। তবে এ নিয়ে মাকে কখনো চিকিৎসক দেখানো হয়নি। তাঁর বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় মা কোনো একটা ওষুধ খেতেন বলে জানান তিনি।

বোন ফাতিমার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারেও বলে মনে করছেন আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বামী মারা যাওয়া, ছেলেমেয়ে না থাকা—সব মিলে ফাতিমা জীবনের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলছিলেন। তবে বোনকেও কখনো এ নিয়ে চিকিৎসক দেখানো হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বোনের বাসার ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ বাসায় গিয়ে কাজ করবে এটা বোন পছন্দ করত না। নিজেও শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বাসা পরিষ্কার রাখতে পারত না। এর মধ্যে আমি নিজে কাজের মানুষ ঠিক করে পাঠিয়েছিলাম, তবে এক সপ্তাহের মধ্যে সেই লোককে বাদ দিয়ে দেয়। মা নিজেও পছন্দ করতেন না। আগবাড়িয়ে কিছু করতে গেলে মা সন্দেহ করবেন, তাই এ নিয়ে আসলে আমার কিছু করার ছিল না।’

আশিকুর রহমান জানান, ৩১ মে বিকেল চারটার দিকে তাঁর বোন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। এরপর নার্স ডাকাসহ অন্যান্য কাজ সামলাতে হয়। মা মারা যাওয়ার পর থানা–পুলিশ, গ্রামে নিয়ে দাফনসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে উপস্থিত ছিলেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান। তিনি জানান, একজন নার্স সরকারের জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে তিনি (এসআই) সেখানে গিয়ে দেখতে পান, বাসাটি বসবাসের অনুপোযোগী, চারপাশ অত্যন্ত নোংরা। মরদেহটি বিছানায় পড়ে আছে, ডান চোখ ও পিঠে পোকা ধরেছে।তবে আশিকুর রহমান বলেছেন, মায়ের মরদেহে এমন কিছু তিনি দেখেননি।

নূর জাহান বেগম যেভাবে নোংরা পরিবেশে মারা গেলেন, তা অস্বাভাবিক কি না—এ প্রশ্নের জবাবে আশিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি কিছুটা অস্বাভাবিক, তা নিয়ে সমালোচনাও হতে পারে। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এসব বিষয়ে কথা বলতে আজ ফাতিমা নাসরীনের মুঠোফোনে প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে মেসেজ পাঠিয়ে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি ধরে কেটে দেন। গতকাল দুপুরে তাঁর বাসায় গেলেও কেউ দরজা খোলেননি।

এ বিষয়ে আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বোনের কাছে মা থাকতেন। এই বোন মানসিকভাবে বেশি ভেঙে পড়েছে। এই সময় তাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না।’

নূর জাহান বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে জানিয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির  বলেছেন, ধারণা করা হচ্ছে, নূর জাহান বেগমের মৃত্যু দিন দুয়েক আগেই হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status