|
বৃষ্টির মধ্যেও জমজমাট গাবতলী পশুর হাট, মাঝারি গরুতে ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বৃষ্টির মধ্যেও জমজমাট গাবতলী পশুর হাট, মাঝারি গরুতে ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাট জুড়ে কাদা আর পানি জমে গেলেও থেমে থাকেনি বেচাকেনা। বিক্রেতারা ত্রিপলের নিচে গরু সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন, আর ক্রেতারাও ছাতা মাথায় পশু দেখতে থাকেন। গাবতলী হাট জুড়ে সারিসারি গরু দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হাজারো গরু দিয়ে হাট প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাটের বিভিন্ন অংশে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল মাঝারি আকারের গরুর দিকে। হাটে ঘুরে দেখা যায়, ছোট গরুর পাশাপাশি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাঝারি গরুর দিকে বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। বিক্রেতারা বলছেন, বড় গরুর তুলনায় সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় এসব গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর থেকে গরু কিনতে আসা মোহাম্মদ মনসুর ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, "কয়েকটি হাট ঘুরে শেষ পর্যন্ত আজ গাবতলী থেকেই গরু কিনলাম। দাম একটু বেশি মনে হলেও পছন্দ হওয়ায় নিয়ে নিলাম।" এদিকে সাত ভাগে কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন জয়নাল নামে এক ক্রেতা। তিনি জানান, তাদের বাজেট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই অনুযায়ী ভালো মাঝারি গরু খুঁজছেন তারা। জয়নাল বলেন, "সবাই মিলে ভাগে কোরবানি দিলে খরচ কম পড়ে। তাই মাঝারি গরুই দেখছি।" মোহাম্মদ শাহিন মহম্মদপুর থেকে ভাই ও বন্ধুদের নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, "আমরা পাঁচটি গরু কিনবো। বাজেট ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মধ্যে। তবে বিক্রেতারা বড় গরুর দাম খুব একটা কমাচ্ছেন না। যে গরু পছন্দ হচ্ছে, তার দাম ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে।" পাশে থাকা বিক্রেতা আব্দুল ওয়াহাব বলেন, "এবার আর বড় গরু পালবো না। ক্রেতারা বড় গরুর দাম বলতে চায় না। ছোট ও মাঝারি গরু হলে দ্রুত বিক্রি হয়ে যেত।" তিনি ফরিদপুর থেকে তিন দিন আগে গাবতলী হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। তার ভাষ্য, "ক্রেতারা সাড়ে ৩ লাখ টাকা বলছেন, কিন্তু আমরা ৭ লাখ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারবো না।" অন্যদিকে মোহাম্মদ শফিক তার মালিকের ২৫টি গরু নিয়ে চার দিন ধরে হাটে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে তিনটি গরু সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। বাকি গরুগুলো গড়ে ৩ লাখ টাকার মধ্যে বিক্রির আশা করছেন তিনি। শফিক বলেন, "আজ বিকেলের দিকে ক্রেতা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। তখন বিক্রিও বাড়বে।" বিক্রেতাদের ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তি হলেও ক্রেতার উপস্থিতি কমেনি। বরং ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, হাটে মানুষের ভিড় তত বাড়ছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
