ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২২ মে ২০২৬ ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা কি এবার সত্যিই স্বয়ংক্রিয় হবে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 22 May, 2026, 3:12 PM

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা কি এবার সত্যিই স্বয়ংক্রিয় হবে?

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা কি এবার সত্যিই স্বয়ংক্রিয় হবে?

একটা দেশে ৫৪ বছর একইভাবে চলেছি, সেটাকে ওভারকাম করতে একটু সময়তো লাগবেই।ঢাকার ট্রাফিক সিগনাল স্বয়ংক্রিয় করতে গেল দুই দশকে তিনটি প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা কি আদৌ কাজে দেবে?

আট মাস ধরে সাতটি মোড়ে চলা নতুন পরীক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজে না দিলেও সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বলছেন, বৃহৎ পরিসরে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হওয়ার পর সুফল মিলবে। নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দায়িত্বশীল আচরণ না করায় এরইমধ্যে স্বয়ংক্রিয় মামলা দায়ের শুরু হয়েছে।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত মোড় কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে শনিবার দুপুরে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বিদ্যুৎ হোসেন, যেখানে গেল বছরের অগাস্টে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনাল বাতি।

চালুর আট মাস বাতি মেনে সড়কে নেমে যানবাহন আটকাতে হলেও চলতি মাসে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখনো মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন, তবে আগের মতো সড়কে নেমে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না।

লাল-সবুজ বাতি অনুযায়ী কখনো মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন, প্রায় বেশিরভাগ যানবাহনই বাতি মেনে থামছেন বা চলছেন। সিগনালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের বিশৃঙ্খল চিত্র।

ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া শুরুর পর থেকে চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগনাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ।

কারওয়ান বাজার মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ তেমন কেউ সিগনাল ভাঙছে না।

ডিএমপি জানিয়েছে, সিগনালগুলোতে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের ছবি ও ভিডিও তাৎক্ষণিক সদর দপ্তরের সার্ভারে জমা করছে এসব ক্যামেরা। গেল ৭ মে থেকে সেসব পর্যালোচনা করে মালিক/চালকদের ঠিকানায় মামলার কপি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের তরফে এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগনাল মানার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার কথা বললেও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক মো. হাদিউজ্জামান বলেছেন, ক্যামেরার মাধ্যমে পাওয়া ফুটেজ যাচাই করে আসলে ম্যানুয়ালিই পর্যালোচনসা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক সিগনালে এই ব্যবস্থাপনা কাজে দিলেও বৃহৎ পরিসরে এটা বাস্তবায়ন করা দুরুহ হবে।

ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ের সংখ্যা ১২০টি জানিয়ে এ পরিবহন বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন যেসব মোড়ে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, সেখানে যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

আমাদের ঢাকা শহরের বেশ কিছু সড়ক আছে, যেটা অত্যন্ত জনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে যানবাহনের সংস্করণ অনেক ধরনের আছে, যান সংখ্যাও বেশি। ধীরে ধীরে পরে যখন আমাদের সিগনালগুলি ডিজিটাল হবে এবং এভাবে ক্যামেরা বসবে। যে পদ্ধতিতে এখন আসলে ম্যানুয়ালি ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে মামলা দেওয়া হচ্ছে, এটা আসলে বাস্তবায়ন করাটা দুরুহ হবে—এ বিষয়ে কোনো ভুল নাই।

যদিও পুলিশ মোটাদাগে এই ব্যবস্থাপনার জটিলতা বলতে এখন কেবল কোনো কোনো যানবাহনের অস্পষ্ট নম্বর প্লেট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কথা বলেছেন। কারণ অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।

কারওয়ান বাজার মোড়ে ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুল মান্নাফ অবশ্য আরো চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিষেধ থাকা সত্ত্বেও হুটহাট প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলে আসছে। এদের আটকাবে কে? এই রিকশা না আটকাতে পারলে ক্যামেরা দিয়েও কোন কাজ হবে না।

যে কারণে যুক্ত হল এআই ক্যামেরা
গত বছরের এপ্রিলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়কের ২২টি মোড়ে নতুন করে স্বয়ংক্রিয় বাতি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় তখনকার অন্তর্বর্তী সরকার। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব বাতি বসাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি টাকা।

স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে ২২টি মোড়ের মধ্যে ছিল ঢাকা উত্তর সিটির ১৪টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৮টি মোড়। এরপর অগাস্টে ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ সাতটি মোড়ে নতুন ‘স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনাল’ ব্যবস্থা চালুর কথা জানায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

গেল বছরের ৩১ অগাস্ট থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাহাঙ্গীর গেট মোড়ে ব্যবস্থাটি চালু হয়।

যার প্রত্যেকটিতেই আট মাসেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছিল না। আগের মতোই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে সড়কে নেমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছিল, তফাৎ কেবল সময় ঠিক করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল বাতিগুলো।

ঢাকার এ সিগনাল বাতি তৈরি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বাতি স্থাপনের এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। আর ডিটিসিএর তদারকিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএমপি।

এর মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ১২০টি সিগনালকে পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত ২৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন শীর্ষক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে সরকারপ্রধান তারেক রহমান ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

দীর্ঘ দিন বাতি চালু থাকার পরেও যানবাহনগুলোর না মানার প্রবণতা এবং সড়কে গাড়ি থামিয়ে আইন অমান্যকারীদের ঝামেলা এড়াতে ক্যামেরাভিত্তিক মামলার প্রক্রিয়ায় যায় ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।

সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে।

ক্যামেরা যেভাবে কাজ করছে
আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, উপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়।

এসব ক্যামেরা আইনের ছয় ধরনের বিধান অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে।

এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য।

টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্টার্ড ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগনাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হচ্ছে।

গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগনাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।

ক্যামেরা বাদে আট মাসেও কেন অভ্যস্ত করা গেল না?
ডিটিসিএর ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলছেন, ঢাকার দুই সিটিতে মোটাদাগে প্রায় ২০০টি সিগনাল রয়েছে।

এর মধ্যে সাতটা সিগনাল দিয়ে করা এই মডেল মোটামুটি কার্যকর হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কয়েকটা বেনিফিটের মধ্যে হচ্ছে যে, ইউজাররা অনেকটা সচেতন হয়েছে।

ওরা একটু বুঝতে পারতেছে যে, এই সিগনালটা এত সেকেন্ড পরে যাবে।

প্রস্তাবিত সিগনালগুলোতে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেনও বলছেন, এই ব্যবস্থাপনার ফল পেতে আরো সিগনাল অটোমেশনে যেতে হবে।

মনে করেন একজন মিরপুর রোড থেকে যাচ্ছে, সেখানে সিগনাল নাই। এয়ারপোর্ট উঠে একটা সিগনাল দেখতেছে, জিনিসটা তখন তার মাথায় আসে নাই। সে হয়তো টোটালি ১০টা সিগনাল পার হচ্ছে, তার মধ্যে একটায় দেখতেছে সিগনাল আছে।

অধ্যাপক মোয়াজ্জেম বলেন, ৪০-৫০টা যখন অ্যাটলিস্ট হয়ে যাবে, তখন একটা আবহ তৈরি হবে যে, আমাকে এখন ট্রাফিক সিগনাল দেখেই চলতে হবে। আর কিছু গ্রাউন্ড রিয়েলিটি আছে, যে জিনিসগুলো একটু ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন করতে পারলে জেনারেল কমপ্লায়েন্স লেভেল চলে আসবে।

এখন যেভাবে সিগনাল কাজ করে
নতুন এ প্রকল্পের আওতায় ট্রাফিক বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলতে ও নিভতে পারে, আবার ম্যানুয়ালিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যে কারণে এটিকে আধা স্বয়ংক্রিয় বা সেমি অটোমেটেড ব্যবস্থা বলা হচ্ছে।

বুয়েটের তরফে জানানো হয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে সংকেত বাতি চালু ও বন্ধের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর পর কোনো এক পাশের রাস্তায় যান চলার জন্য সবুজ বাতি বা থামার জন্য লাল বাতি জ্বলবে ও নিভবে।

সড়কের কোনো একপাশের যানবাহনের চাপ বুঝে প্রয়োজনে এই সংকেত বাতি ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। যানজট পরিস্থিতি বুঝে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকা অপারেটরকে নির্দেশনা দেবেন। সে অনুযায়ী অপারেটর সবুজ বা লাল বাতি জ্বালাতে পারবেন।

বুয়েটের তথ্য অনুযায়ী, সংকেত বাতি, কন্ট্রোলার সবই স্থানীয় বাজার থেকে নেওয়া উপকরণ দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থাটি চালুর পর বলা হয়েছিল, সেসব স্থানে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা হাতের ইশারায় আর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবেন না। সংকেত বাতি মেনে চলতে হবে সব যানকে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কেবল সংকেত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

নতুন ব্যবস্থা চলছে কেমন?
নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়া সাতটি সিগনালেই দেখা গেছে, লাল-হুলুদ ও সবুজ বাতিগুলো কার্যকর ছিল। প্রতিবারই লাল বাতি জ্বলার পর অপেক্ষার জন্য টাইমারে নির্ধারিত সময় দেখা যাচ্ছে। সেই সময়ের শেষে সবুজবাতি জ্বলে উঠছে।

সে অনুযায়ী পথের সংযোগপ্রান্তে দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা ইশারা দিয়ে যানবাহন থামার বা চলার নির্দেশ দিচ্ছেন। লালবাতি জ্বললেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের ইশারা ছাড়া থামতে চাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি যানবাহন চালকদের।

এর ফলে বেশিরভাগ সময়ই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে সড়কের মাঝখানে নেমে আসতে দেখা যাচ্ছিল। আবার সবুজবাতি প্রদর্শন করা পাশের যানবাহনগুলো সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসায় কখনো স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল।

ক্যামেরা চালুর আগে বিজয় সরণি সিগনালে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্য মেহেদুল বলেন, কন্ট্রোলরুম থেকে সিগনাল মেনটেইন করা হচ্ছে, আমরা সেই অনুযায়ী বন্ধ করছি আর ছাড়ছি।

তবে মানুষজনকে নিজ থেকে সিগনাল মানাতে হলে অমান্য করলেই মামলা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে কিছুদিন আগে মনে করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে এআই ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে মামলা।

ডিএমপি ট্রাফিকের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে লেইন ভায়োলেশনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ভায়োলেশন হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে।

কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কি না, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কি না। এসব ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি প্রসিকিউশন (মামলা) প্রস্তুত করেছি।

ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।

২২টির মধ্যে আট মাসে ১৫টি বাস্তবায়ন দুই সিটির
সাতটি সিগনালে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর দিন ডিটিসিএ বলেছিল, প্রকল্পের আওতায় ধাপে ধাপে ২২টি মোড়ে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরবর্তী সাত মাসেও সেটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

বুয়েটের তরফ থেকে পরামর্শক হিসেবে কাজ করা এক অধ্যাপক বলছেন, এ প্রকল্প চলার মধ্যে দুই সিটির প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী পরিবর্তন হয়েছে। তারা সিভিল ওয়ার্কে প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করতে না পারায় বুয়েট সিস্টেম ডেলিভারি দিতে পারেনি।

তবে সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে গত মাসে ওই অধ্যাপক বলেছিলেন, খুব শিগগিরই আরো কয়েকটা সিগন্যালে এই সিস্টেম চালু হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলমও বাকিগুলোতে টেন্ডারের পর ইভালুয়েশন প্রসেসে আছে বলে জানিয়েছিলেন।

প্রকল্পের নির্ধারিত ১৮ কোটি টাকার মধ্যেই বাকি কাজগুলো করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি সিগনাল লাইট চালু রয়েছে।

প্রয়োজন বিবেচনায় ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় আরো ১৫টি সিগনাল বাতি চালু করা হয়। বর্তমানে এই ৩০ টি পয়েন্টেই সিগনাল বাতির পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা চালু রয়েছে।

ব্যর্থ আগের তিন প্রকল্প
২০০১-০২ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া ‘ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০টি মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগনাল বাতি বসানো হয়েছিল।

তখন সিস্টেমে সিগন্যালের জন্য যে সময় ঠিক করা হয়েছিল, তার সঙ্গে চলমান গাড়ির সংখ্যার মিল না থাকায় কিছুদিন পরেই ব্যবস্থাটি বাদ দিতে ‘বাধ্য হয়’ পুলিশ।

২০০৮ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হবার পর ট্রাফিক পরিস্থতি আরও জটিল হয়ে পড়লে আগের মতো ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে শুরু করে ট্রাফিক পুলিশ।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১০-১১ অর্থবছরে ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস)’ নামে আরেকটি প্রকল্পের আওতায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগনাল-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল।

এর আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯২টি মোড়ে সোলার প্যানেল, টাইমার কাউন্টডাউন, কন্ট্রোলার ও কেবল স্থাপন করা হয়। পরে সেটিও অকার্যকর থাকায় ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৫ সালে ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ডিটিসিএ। জাইকার ঋণ সহায়তায় এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে গুলশান-১, মহাখালী, পল্টন ও ফুলবাড়িয়া মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেমের (আইটিএস) জন্য ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, অত্যাধুনিক শব্দধারণ যন্ত্র, বাতি, বিশেষায়িত তার এবং খুঁটি স্থাপন করা হয়।

৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ডিটিসিএ জানিয়েছিল, ঢাকার মতো শহরের জন্য এ ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত ছিল না। অযান্ত্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা কার্যকর নয়। প্রকল্প শুরুর সময় ঢাকার সড়কের অযান্ত্রিক যানবাহনের বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি।

আগের সিস্টেমগুলো কার্যকর না হওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন।

তিনি বলেন, প্রথম কারণটা হলো আগের সিস্টেমগুলো বাইরে থেকে আনা হয়েছিল, লোকাল ব্যাকআপ সাপোর্ট ডেভেলপ করা হয় নাই। যার ফলে যখন যেটা নষ্ট হয়েছে, বাইরে থেকে নিয়ে এসে যেটাকে ব্যাকাপ দেওয়ার সেই ব্যাকআপ সিস্টেমটা চালু হয় নাই।

“আর দ্বিতীয়ত সিটি করপোরেশন এটাকে লং টার্মে ক্যারি ফরওয়ার্ড করার জন্য কোনো প্ল্যান নিয়ে এগোয়নি। মানে ইনস্টলেশন পর্যন্তই তাদের ইচ্ছা, ওটা শেষ হয়ে গিয়েছিল।”

এবারের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ভবিষ্যতের জন্যও বুয়েটের তরফ থেকে একটি প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনকে বোঝাতে চেয়েছি যে, শুধুমাত্র ইনস্টলেশন শেষ না। পরবর্তীতে এটাকে পরিচালনা করার জন্য অন্যান্য প্রোগ্রামের মতো তাদের একটা প্রোগ্রাম থাকতে হবে। এটা হলে দীর্ঘমেয়াদে একটা সিস্টেম হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।

ঢাকার বাকি সিগনালেও একই ব্যবস্থা?
ঢাকার ১২০টি ট্রাফিক সিগনাল পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনতে সরকার যে পরিকল্পনা করছে, তা বাস্তবায়ন হবে কীভাবে?

ডিটিসিএর ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অফিসার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সেলিম খান বলেন, চলমান ২২টি ট্রাফিক সিগন্যালের ব্যবস্থাই বাকি সিগনালগুলোতে বাস্তবায়নের ভাবনা রয়েছে তাদের।

এ ব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন ডিটিসিএর ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, এখান থেকে লার্নিং যেগুলো আছে, এগুলো আমরা ফাইন্ড আউট করতেছি। কীভাবে আরো ইমপ্রুভ করা যায়, আমরা বেশ কয়েক ফেজে এটা ইমপ্রুভমেন্ট করছি শুরুর পর থেকে।

পাইলট প্রকল্প শেষে ঢাকার বাকিগুলো মোড়ে এ ব্যবস্থা চালু হলে ‘ভালো সুবিধা’ পাওয়া যাবে বলে মনে করেন প্রকৌশলী কামরুল হাসান।

তবে নতুন ১২০টি সিগন্যালের পরিকল্পনার প্রশ্নে তিনি বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে আমরা কোনো অফিসিয়াল লেটার বা আমাদের মিনিস্ট্রি বা পুলিশ থেকে অফিসিয়ালি এখনো আসেনি।

তাই এটা আসলে ওভাবে বলা যাচ্ছে না। এটা হয়তো সরকারের প্রায়োরিটি লিস্টে থাকে, আমার মনে হয় দ্রুতই ইমপ্লিমেন্ট হবে।

আট মাসেও যে ব্যবস্থার পুরোপুরি বাস্তবায়ন দেখা যায়নি, সেটি সামনের দিনে সফল করতেই সিগনালগুলোতে ক্যামেরা বসানোর কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, একটা দেশে ৫৪ বছর একইভাবে চলেছি, সেটাকে ওভারকাম করতে একটু সময়তো লাগবেই। আমরা চেষ্টা করছি এবং আমরা আশাবাদী যে ইনশাল্লাহ এটা আমরা পারব।

তবে দিন শেষে মানুষের সহযোগিতাই জরুরি বলে মনে করেন অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।

ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. সরওয়ার পর্যায়ক্রমে সকল ট্রাফিক সিগনাল লাইট লাগানোর পোলগুলোতে পর্যায়ক্রমে এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। যার মাধ্যমে আগামী ৬ মাসের মধ্যেই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শতভাগ ডিজিটাল প্রসিকিউশনে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

সবশেষ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বলছে, এবারের ব্যবস্থা নিয়ে তারা ‘আশাবাদী’।

গেল কয়েক মাসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ডিটিসিএর ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অফিসার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সেলিম খানের মনে হয়েছে বলেন, সিস্টেমটা রান করবে ভবিষ্যতে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান মনে করিয়ে দেন, উন্নত বিশ্বে ফুটেজ দেখে ম্যানুয়ালি মামলা দেওয়া হয় না। সেটা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অনেকগুলো ইন্টারসেকশন আছে যেখানে যানবাহনের এত ভয়াবহ অনেক সংস্করণ আছে, সেখানে আসলে এআই অনেকটা বেকুব সেজে যাবে।

এআই ক্যামেরার পুরোপুরি সফলতা পেতে হলে পলিসিগত অনেক জায়গায় কাজ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এখন বৈধ যানবাহনের চেয়ে অবৈধ যানবহন বেশি। এই অবৈধ যানবহনগুলোর নিবন্ধন এখনো দেওয়া হয়নি, এদের নম্বর প্লেটও নাই।

তো যারা আসলে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আপনি তাদেরকে মামলা দিতে পারছেন না। আর যাদের কারণে অনেকটাই নিরুপায় হয়ে আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। অটোরিকশা থেকে বাঁচার জন্য আমাকে বামে চেপে আসতে হয়েছে, সেটা নিজের আত্মরক্ষার জন্য। সে জায়গায় আমি কিন্তু আসলে এআই লেন্সের মধ্যে আটকে যাব। সেখানে তো এআই আর বুঝবে না, যে আপনি কোন প্রেক্ষাপটে বামে চেপে আসছেন।

তার ভাষ্য,  যে বৈধ যানবহন যে আত্মরক্ষার জন্য কাজটা করলো, যদি মামলা তাকে দেওয়া হয় সেটা আমি মনে করি তার প্রতি কিন্তু অবিচার করা হবে। আমরা বিশৃঙ্খল বিশৃঙ্খলার মধ্যে এআইটা ইমপ্লিমেন্ট করে ফেললাম।

তার মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে এবং এআইয়ের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডটা তৈরি করতে হবে।

বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, অবৈধ অনিবন্ধিত লক্কর-ঝক্কর যানবাহনগুলি সড়ক থেকে তুলে ফেলতেই হবে ধাপে ধাপে, এটার কোন বিকল্প নাই। আমাদের বৈধ যানবাবহনের মধ্যে অনেকগুলি সংস্করণ আছে, যার কারণে আমরা লেন ডিসিপ্লিন আনতে পারি না। সড়কে যানবাহনের সংস্করণটা আমাদের কমাতে।

উন্নত দেশগুলোতে এআই প্রযুক্তি শতভাগ সফলতার কারণ সেখানে যানবাহনের সংস্করণ সীমিত, পক্ষান্তরে ঢাকার সড়কে ২২ সংস্করণের বৈধ যানবাহন রয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈধ ২২ সংস্করণের বাইরে অটোরিকশার মধ্যে আমার ধারণা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সংস্করণের এখন নেমে গেছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অনিবন্ধিত যানবহনকে সড়ক থেকে নিয়ন্ত্রণ করা, লক্কর ঝক্কর বাসগুলোর যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামার মতো যেমন খুশি তেমন চলাচল পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তারপরে দেখা যাবে সড়কে অনেকেই কিন্তু অটোমেটিক্যালি আইন মানবে। ক্যান্টনমেন্টে গেলে কিন্তু আমরা আইন মানি, কারণ সেখানে শৃঙ্খলা আছে। ইকোসিস্টেমটা যদি ইউজার ফ্রেন্ডলি হয় ৯৫ শতাংশই আইন মানবে। বাকি ৫ শতাংশ যারা আইন মানবে না, তাদেরকে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা করবেন, এই ফিলোসফিটা হওয়া উচিত।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status