ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে দিন-রাত খাটছেন প্রবীণ-নবীন কারিগরেরা
শহীদুল ইসলাম শরীফ
প্রকাশ: Tuesday, 19 May, 2026, 6:35 PM

দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে দিন-রাত খাটছেন প্রবীণ-নবীন কারিগরেরা

দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে দিন-রাত খাটছেন প্রবীণ-নবীন কারিগরেরা

চোখ ধাঁধানো আগুনের ফুলকি আর চারপাশ জুড়ে লোহার ওপর হাতুড়িপেটার ‘টুং টাং’ শব্দই বলে দিচ্ছে দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানি পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং গোস্ত কাটার প্রধান হাতিয়ার দা, বঁটি, ছুরি আর চাপাতি তৈরিতে এখন ব্যস্ত ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়াগুলো। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন এ শিল্পের কারিগরেরা।

সাধারণত বাজারে অনেক জিনিস পিস হিসেবে বিক্রি হলেও কামারদের তৈরি এই দেশীয় লোহার হাতিয়ারগুলোর বেচাকেনায় রয়েছে ভিন্নতা। স্থানীয় দোহারের নতুন বাজারের কারিগর সঞ্জিত কর্মকার (৪০) জানান, কোরবানিদাতাদের পছন্দের এসব দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি মূলত প্রতি কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। লোহা ও কাজের মানভেদে বর্তমানে প্রতি কেজি সামগ্রী ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কামারশালায় সাধারণত দুই ধরনের লোহা ব্যবহৃত হয় স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা। এর মধ্যে গাড়ি বা ভারী যানের স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান অনেক ভালো এবং টেকসই হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর দাম ও চাহিদাও বেশি। প্রতি বছর কোরবানির আগে পশুদাতারা তাদের সুবিধেমতো নতুন সামগ্রী ওজন মেপে ক্রয় করেন অথবা ঘরের পুরোনো জিনিসগুলো মেরামত করে নেন।

বছরের অন্য দিনগুলোতে কামার দোকানগুলোতে তেমন একটা কাজ না থাকলেও, কোরবানির ঈদই এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে দোকানগুলোতে জ্বলছে লাল-সবুজ কয়লার আগুন। হাপরের টানে বাতাস দিয়ে কাঁচা লোহা গলিয়ে পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে ধারালো সব কোরবানি সামগ্রী।
একই উপজেলার জয়পাড়া বজারর অন্য এক কামারশালার ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণ কারিগর প্রদীপ কপালে জমে থাকা ঘাম মুছতে মুছতে বলেন, "ঈদের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, এখন আমাদের দম ফেলার সময় নেই। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কয়লার আগুনের সামনে বসে থাকতে হয়। এই বয়সে এতো কষ্ট শরীর সইতে চায় না, তাও বছরের এই একটা সময়ে একটু বাড়তি আয়ের আশায় সব কষ্ট ভুলে যাই।"

আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে এবং বাজারে বিদেশি তৈরি সস্তা স্টিলের রেডিমেড সামগ্রীর ভিড়ে কামারদের এই দেশীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। কয়লা, লোহা ও হাপরের দাম দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বছরের বাকি সময়টা অলস বসে থেকে অনেক কারিগরকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। লাভ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পূর্বপুরুষের এই আদি পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

তবে এত সংকটের মাঝেও কোরবানির ঈদের এই একটা মাস কামার পাড়ায় যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। কয়লার আগুন আর লোহার টুং টাং শব্দ মনে করিয়ে দেয় আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এখনো কতটা জীবন্ত।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status