ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেট ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ক্রেতা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Monday, 30 March, 2026, 6:26 PM

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে  সিন্ডিকেট  ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ক্রেতা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেট ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ক্রেতা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। ওষুধের প্যাকেট মূল্যের শতকারা ১০ ভাগ কমিশন দিয়ে ওষুধ ফার্মেসী গুলো এতোদিন  ওষুধ বিক্রি করে আসলেও সিন্ডিকেট নেতাদের চাপের মুখে ফার্মেসিগুলো ওই শতকরা ১০ ভাগ কমিশনে ক্রেতাদের কাছে আর ওষুধ বিক্রি করতে পারছে না। এতে সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত ক্রেতারা পড়েছে বিপাকে।
এব্যাপারে জেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ উত্থান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু।

অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ করছে।

কোনো কোনো ফার্মেসি ওষুধের গায়ে উল্লিখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে উদ্যোগী হলেও তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে; অনেক সময় ভয়ভীতিও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর ফলে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাজারে কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০, ৪১ ও ৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি এবং সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, জেলায় ২ হাজার ২৬৫টি ফার্মেসীর মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি হয়। তাদের দপ্তর ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, তবে মূল্য নির্ধারণ করে না। এ সময় কুড়িগ্রাম শহর ও উলিপুরে দাম নিয়ে অভিযোগের কথা তিনি স্বীকার করেন।

কুড়িগ্রাম জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো সীমিত পরিমাণ ডিসকাউন্ট দেয়। কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা। এর বেশি নেওয়া যাবে না, তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কেউ এতে বাধা দিলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাধারণ ক্রেতারা জানান, একই ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কম দামে কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status