|
নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রধান আসামি নুরা গ্রেপ্তার
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রধান আসামি নুরা গ্রেপ্তার শুক্রবার রাত নয়টার দিকে নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ারের নেতৃত্ব পুলিশের একটি দল গাজীপুরের মাওনা থেকে নুরাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে অপর আসামি হযরত আলীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এ নিয়ে মোট সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। জানা গেছে, নিহত কিশোরী একটি পোশাক কারখানার কাজ করতো এবং পরিবারের সঙ্গে দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। নিহতের বাবা আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে ছয় যুবকের একটি দল তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা করার চেষ্টা করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। থানায় যাওয়ার পথে আমাদের আটকে দেওয়া হয়। ভয় পেয়ে বাড়িতে চলে আসি। আশরাফ জানান, পরে তারা মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলীর কাছে ঘটনাটি জানান, যিনি সামাজিক সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন। নিহতের বাবার অভিযোগ, সালিশের সময় আহম্মদ আলী অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এরপর তাদের গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ‘কিন্তু নুরুল আমার মেয়েকে অনুসরণ করতেই থাকে। নিরাপত্তাহীনতায় আমরা তাকে অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই’, বলেন তিনি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আশরাফ হোসেন মেয়েকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে বরইতলা এলাকা থেকে নুরুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে না পেয়ে তিনি আহম্মদ আলীকে বিষয়টি জানান। পরে বৃহস্পতিবার সকালে সরিষা ক্ষেতে মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়, বলেন তিনি। তিনি বলেন, তারা আমার মেয়েকে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। এর পর গতরাতে ওই কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম মাধবদী থানায় আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মাধবদী থানার ওসি কামাল বলেন, মামলায় তার মেয়েকে অপহরণ করে ফসলের জমিতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা চাপা দেওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ওই কিশোরীর মরদেহ গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানা কবির জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আজ শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা হবে। আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (২৫), প্রধান আসামি নুরুলের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব (৩৬), এবায়দুল্লাহ (৩৮) ও হোসেন বাজার এলাকার আবদুল গাফফার (৪০)। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
