ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীসভা, এটি আসলে কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 15 February, 2026, 3:26 PM

আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীসভা, এটি আসলে কী?

আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীসভা, এটি আসলে কী?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন। আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে যাচ্ছেন।

এমন বাস্তবতায় বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করতে পারে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। এরই মধ্যে ওই জোটের দু-একজন নেতার পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

কিন্তু দেশে অধিকাংশ মানুষই জানে না এই ছায়া মন্ত্রীসভা কী? এর কাজই বা কী?

ছায়া মন্ত্রীসভা কী?

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের গঠিত একটি ‘বিকল্প মন্ত্রিসভা’ কাঠামো, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি, কার্যক্রম ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েস্টমিনস্টার ধারার গণতন্ত্রে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনও বিধান নেই। ফলে এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু নেতাকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও তা স্থায়ী বা সুসংগঠিত কাঠামো পায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংসদীয় চর্চার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যবস্থা কার্যকর রূপ পায়নি।

কেন আলোচনায়?

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে শক্তিশালী ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। অনেকের মতে, একটি সক্রিয় ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে— নীতিগত বিতর্ক আরও কাঠামোবদ্ধ হতো, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব নিয়মিত উপস্থাপিত হতো এবং সংসদে জবাবদিহিতা বাড়তো।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যদি সংসদীয় সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর একটি রাজনৈতিক অনুশীলনে পরিণত হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

ছায়া মন্ত্রিসভা- বাংলাদেশে এখনও একটি ধারণা; তবে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হলে এটি বাস্তব কাঠামোতেও রূপ নিতে পারে।

রবিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লিখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রীপরিষদ গঠন করব, ইনশাআল্লাহ।’

এ বিষয়ে মোহাম্মদ শিশির মনির রবিবার সকালে আরেক পোস্টে বলেন, ‘রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারিদল মন্ত্রীসভা গঠন করুক। বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভিতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক হউক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status