ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
হাদি হত্যার বিচার দাবি
শাহবাগ রণক্ষেত্র, পুলিশের লাঠিপেটা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 7 February, 2026, 10:23 AM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 7 February, 2026, 10:26 AM

শাহবাগ রণক্ষেত্র, পুলিশের লাঠিপেটা

শাহবাগ রণক্ষেত্র, পুলিশের লাঠিপেটা

ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
জাবের ও আম্মারসহ ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিয়েছেন শতাধিক
ইনকিলাব মঞ্চের গুলির দাবি, পুলিশ ও সরকারের অস্বীকার

নির্বাচনের বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। এ অবস্থায় হঠাৎ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের পাশাপাশি জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে গতকাল পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মিছিলে পুলিশি বাধা, লাঠিপেটা, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
 
গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে এই সংঘর্ষের শুরু হয়। এরপর রাত পর্যন্ত শাহবাগ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সংঘর্ষের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি চালায়নি।

হাসপাতালের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আহতের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
এর আগে হাদি হত্যাকাণ্ডের ৫০ দিনে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সারা রাত আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থানে ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা ছাড়াও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন ওসমান হাদির স্ত্রী।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে  তাঁদের পথরোধ করে। আন্দোলনকারীরা এক পর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

আহতরা ঢাকা মেডিক্যালে : সরেজমিনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়,  ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ও জকসু নেত্রী শান্তা আক্তারসহ শতাধিক বিক্ষোভকারী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘আহত হয়ে আমাদের এখানে অর্ধশতাধিক রোগী এসেছেন। এর মধ্যে কোনো গুলিবিদ্ধ রোগী পাওয়া যায়নি।’

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো রোগী এখনো পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আহত হয়ে এসেছেন, তাঁদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও জখম রয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগীর জখম ফেটে যাওয়া, থেঁতলে যাওয়া।’

ঘটনার শুরু যেভাবে : যমুনার সামনে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বিক্ষোভকারীরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশ বলছে, এর মধ্যে যমুনার সামনে অবস্থান নেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন। আর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েক শ বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় একাধিক ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরাও পুলিশের দিকে বোতল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধ লোকজন যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আসেন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তখন তিনিসহ উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন।

শাহবাগে সংঘর্ষ : যমুনার সামনে সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গতকাল বিকেলে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নেতাকর্মীদের পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় শাহবাগে শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ঘটনাস্থল। অবরোধের ফলে শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

অবস্থান চলাকালে সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। বিচারের পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

বাংলামোটরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া : হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকারীদের সঙ্গে বাংলামোটরে গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক দলগুলোর নিন্দা : ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। এ ছাড়া এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)।

যমুনা এলাকায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি : ডিএমপি : প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি : ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়নি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

৬ ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়ল ছাত্র-জনতা : প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর শাহবাগ ছেড়েছে বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতা। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নির্দেশে শাহবাগ ত্যাগ করে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা।

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জানান, আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আগামীকাল একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ : শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় ডাকসু ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, কমনরুম, ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমাসহ অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার এত দিন পার হওয়ার পরে যখন বিচারের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে, তখন আজ স্বয়ং ডিএমপি কমিশনার উপস্থিত থেকে এই আন্দোলনকে মকারি করছে। তারা ওসমান হাদিকে নিয়ে মকারি করছে, আমাদের বোনদের নিয়ে মকারি করছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ আশঙ্কা করছে, এখানে আওয়ামী লীগের একটা অংশ জড়িত রয়েছে। পুলিশে গুপ্ত থাকা আওয়ামী লীগের একটা অংশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে পড়া আরেকটি অংশ আজকে উসকানি দিয়েছে। তারা এই আন্দোলনকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে’ : কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। গত রাত সোয়া ৯টায় ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পোস্ট থেকে ওই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছ। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

রাত ১১টা পর্যন্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখানে রাত ১১টা পর্যন্ত ৬৫ জন রোগী পেয়েছি। তার মধ্যে একজন ভর্তি রয়েছে। কয়েকজন অবজারভেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মহিউদ্দিন রনিকে (ঢাকা-১৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী) ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তার সমস্ত শরীর স্ক্যান করা হয়েছে, তবে গুরুতর কোনো জখম পাওয়া যায়নি।’

চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের সড়ক অবরোধ : গণমাধ্যমকে চট্টগ্রাম অফিস জানায়, রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর মিছিল নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ২ নম্বর ষোলশহর প্রধান সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলছিল। এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি আব্দুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ষোলশহরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।


নির্বাচনের বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। এ অবস্থায় হঠাৎ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের পাশাপাশি জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে গতকাল পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মিছিলে পুলিশি বাধা, লাঠিপেটা, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 
গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে এই সংঘর্ষের শুরু হয়। এরপর রাত পর্যন্ত শাহবাগ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সংঘর্ষের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি চালায়নি।

হাসপাতালের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আহতের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
এর আগে হাদি হত্যাকাণ্ডের ৫০ দিনে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সারা রাত আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থানে ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা ছাড়াও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন ওসমান হাদির স্ত্রী।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে  তাঁদের পথরোধ করে। আন্দোলনকারীরা এক পর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।


আহতরা ঢাকা মেডিক্যালে : সরেজমিনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়,  ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ও জকসু নেত্রী শান্তা আক্তারসহ শতাধিক বিক্ষোভকারী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘আহত হয়ে আমাদের এখানে অর্ধশতাধিক রোগী এসেছেন। এর মধ্যে কোনো গুলিবিদ্ধ রোগী পাওয়া যায়নি।’

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো রোগী এখনো পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আহত হয়ে এসেছেন, তাঁদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও জখম রয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগীর জখম ফেটে যাওয়া, থেঁতলে যাওয়া।’

ঘটনার শুরু যেভাবে : যমুনার সামনে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বিক্ষোভকারীরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশ বলছে, এর মধ্যে যমুনার সামনে অবস্থান নেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন। আর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েক শ বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় একাধিক ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরাও পুলিশের দিকে বোতল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধ লোকজন যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আসেন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তখন তিনিসহ উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন।

শাহবাগে সংঘর্ষ : যমুনার সামনে সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গতকাল বিকেলে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নেতাকর্মীদের পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় শাহবাগে শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ঘটনাস্থল। অবরোধের ফলে শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

অবস্থান চলাকালে সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। বিচারের পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

বাংলামোটরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া : হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকারীদের সঙ্গে বাংলামোটরে গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক দলগুলোর নিন্দা : ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। এ ছাড়া এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)।

যমুনা এলাকায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি : ডিএমপি : প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি : ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়নি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

৬ ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়ল ছাত্র-জনতা : প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর শাহবাগ ছেড়েছে বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতা। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নির্দেশে শাহবাগ ত্যাগ করে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা।

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জানান, আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আগামীকাল একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ : শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় ডাকসু ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, কমনরুম, ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমাসহ অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার এত দিন পার হওয়ার পরে যখন বিচারের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে, তখন আজ স্বয়ং ডিএমপি কমিশনার উপস্থিত থেকে এই আন্দোলনকে মকারি করছে। তারা ওসমান হাদিকে নিয়ে মকারি করছে, আমাদের বোনদের নিয়ে মকারি করছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ আশঙ্কা করছে, এখানে আওয়ামী লীগের একটা অংশ জড়িত রয়েছে। পুলিশে গুপ্ত থাকা আওয়ামী লীগের একটা অংশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে পড়া আরেকটি অংশ আজকে উসকানি দিয়েছে। তারা এই আন্দোলনকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে’ : কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। গত রাত সোয়া ৯টায় ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পোস্ট থেকে ওই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছ। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

রাত ১১টা পর্যন্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখানে রাত ১১টা পর্যন্ত ৬৫ জন রোগী পেয়েছি। তার মধ্যে একজন ভর্তি রয়েছে। কয়েকজন অবজারভেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মহিউদ্দিন রনিকে (ঢাকা-১৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী) ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তার সমস্ত শরীর স্ক্যান করা হয়েছে, তবে গুরুতর কোনো জখম পাওয়া যায়নি।’

চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের সড়ক অবরোধ : গণমাধ্যমকে চট্টগ্রাম অফিস জানায়, রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর মিছিল নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ২ নম্বর ষোলশহর প্রধান সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলছিল। এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি আব্দুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ষোলশহরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status