|
ক্যান্সার দিবসে আলোচনা সভা ও সাংবাদিকদের কৃতজ্ঞতা স্মারক প্রদান
শামীম শেখ
|
![]() ক্যান্সার দিবসে আলোচনা সভা ও সাংবাদিকদের কৃতজ্ঞতা স্মারক প্রদান ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেডের এমডি ডাঃ মনজুর কাদির আহমেদ , গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাঈদ উজ- জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোসাররত সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী, হীল- এর প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেসা, গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিকেলস্ লিমিটেডের এমডি এবিএম জামাল উদ্দিন আহমেদ, সিওসি ট্রাস্ট্রের ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী ইকবাল মাহমুদ, রোটারিয়ান সৈয়দ আফতাবুজ্জামান ও সিনিয়র সাংবাদিক নাদিরা কিরণ। সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ বলেন, হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন আন্তর্জাতিক ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সংঘ আই.এ.আর.সি (International Agency for Research on Cancer) ২০২৫ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে । প্রত্যেক ক্যান্সার রোগীর অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র বা অনন্য। তাদের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, সমবেদনা ও গল্প আলাদা। ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে সবাই মিলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে হবে। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্যান্সার নামের রোগটিকে নয়, বরং রোগে আক্রান্ত মানুষটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে মানুষ তথা জনসাধারনকে বসিয়ে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এ পর্যায়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থার হাল-নাগাদ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। প্রতিবছর ক্যান্সারে মারা যায় প্রায় ১ লাখ সাড়ে ১৬ হাজার রোগী। এই বিপুল সংখ্যক ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সামর্থ্য বা সক্ষমতা আমাদের নেই। সরকারি বেসরকারি সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ টির মত ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র আছে। সবগুলিতে আবার ক্যান্সার চিকিৎসার সব পদ্ধতি চালু থাকে না। এমতবস্থায়, চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ এর জন্য ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিরোধমূলক উপাদানগুলি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। কিছু বিষয় বর্জন ও কিছু গ্রহণ করতে হবে । পাশাপাশি ক্যান্সারের প্রাথমিক সাতটি সতর্ক সংকেত সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন যে, ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে সার্বিকভাবে একটি জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা খুবই জরুরী। যা বাংলাদেশে বর্তমানে নেই। ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজগুলিতে চালু করা দরকার। ক্যান্সার স্ক্রিনিং অর্থাৎ ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই খুব সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যান্সার রোগী খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে। অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে ১০ জন সাংবাদিককে ক্যান্সার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোদ্ধা হিসেবে কৃতজ্ঞতা স্মারক উপহার দেওয়া হয়: (১) প্রতীক ইজাজ, যুগ্ম সম্পাদক, নিউজ পোর্টাল "সমাজকাল" (২) পল্লব মোহাইমেন, সমন্বয়ক, প্রষুক্তি সংবাদ, প্রথম আলো (৩) বিউটি আকতার, ফিচার ইনচার্জ, আমার দেশ (৪) সুরায়া মুন্নি, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, মোহনা টিভি (৫) তাপসী রাবেয়া আঁখি, সিনিয়র রিপোর্টার, দেশ রূপান্তর (৬) শিমুল মাহমুদ নাঈম, নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের কন্ঠ (৭) মোহাম্মদ আল আমিন, উপ-সম্পাদক, ডেইলি সান (৮) জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, সম্পাদক, সাপ্তাহিক পঙক্তি (৯) বিশাখা দেবনাথ, বানিজ্য সম্পাদক, দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (১০) মো. আজাদুল ইসলাম (আদনান), স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক আমার দেশ। তাদের মধ্যে উপস্থিত ৮ জন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আমৃত্যু ক্যান্সার সচেতনতার কাজে ডাঃ রাসকিনের নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
