|
শি চীনের শীর্ষ সামরিক প্রধানকে বরখাস্ত করলেন কেন?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() শি চীনের শীর্ষ সামরিক প্রধানকে বরখাস্ত করলেন কেন? ৭৫ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়া ছিলেন চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস-চেয়ারম্যান। কমিউনিস্ট পার্টির এই শীর্ষ সামরিক সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। তিনি সরাসরি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন। সাধারণত সাত সদস্যের এই কমিশন এখন কার্যত ভেঙে বর্তমানে শুধু শি চিনপিং ও জেনারেল ঝাং শেংমিন এই দুই সদস্য রয়েছেন। আগের কয়েক ধাপে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বাকি সবাই অপসারিত হয়েছেন। সিএমসি চীনের কয়েক মিলিয়ন সেনাসদস্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে। একসময় দেং শিয়াওপিং শুধু এই সংস্থার চেয়ারম্যান পদেই বসে পুরো চীনের সর্বময় ক্ষমতা পরিচালনা করেছিলেন। এমন একটি শক্তিশালী সংস্থায় এখন মাত্র দুই সদস্য থাকা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক লাইল মরিস। তিনি বলেন, ‘পিএলএ এখন বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। সামরিক বাহিনীতে একটি বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে।’ তার মতে, এত শীর্ষ জেনারেলকে একের পর এক সরিয়ে দেওয়া শির জন্যও স্বস্তির নয়। ঝাং ও লিউকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনে’ অভিযোগে তদন্ত চলছে। যা সাধারণত দুর্নীতির দিকেই ইঙ্গিত দেয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক চং জা ইয়ান বলেছেন, ঝাংয়ের পতনের প্রকৃত কারণ কী, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে এ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক গোপন তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফাঁস করা থেকে শুরু করে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র ও দলাদলির দ্বন্দ্ব—সব ধরনের কথাই শোনা যাচ্ছে। এমনকি বেইজিংয়ে গোলাগুলির গুজবও রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে ঝাং ও লিউয়ের পতন এবং এসব বেপরোয়া জল্পনা দুটি বিষয় স্পষ্ট করে—শি চিনপিং এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে রয়েছেন, আর বেইজিংয়ে তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয় এবং এই জল্পনাকে আরো উসকে দেয়।’ চীনের রাষ্ট্রীয় সামরিক পত্রিকা ‘পিএলএ ডেইলি’ এক সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে কমিউনিস্ট পার্টি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। এখানে পদমর্যাদা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের পরিশোধন অভিযানের ফলে পরবর্তী স্তরের কর্মকর্তাদের ওপরও নজরদারি বাড়ছে—তারা হয়তো ভাবছেন, পরের জন কে? উর্ধ্বতনদের পরিণতি দেখে অনেকেই হয়তো এমন এক ‘মারাত্মক অঞ্চলে’ পদোন্নতি পেতে আগ্রহী নন, যেখানে যে কোনো সময় শির দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আলো এসে পড়তে পারে। এ সবকিছু এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বেইজিং স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং কোনো এক সময়ে সর্বাত্মক হামলার মাধ্যমে দ্বীপটি দখলের হুমকি দিচ্ছে। বিশ্লেষকেরা এখন বিবেচনা করছেন, এসব অপসারণ এমন কোনো সম্ভাবনাকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে—যদিও কারো কারো মতে, বেইজিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে এর প্রভাব খুব সীমিত। চং বলেন, ‘এই শুদ্ধি অভিযান তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে না। বিষয়টি পুরো চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিশেষভাবে শি চিনপিং-এর ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে এর প্রভাব পড়তে পারে, তা হলো কার্যকরী সিদ্ধান্তে। শীর্ষ সামরিক পেশাজীবী না থাকলে, অথবা সামরিক কর্মকর্তারা যদি ভীত হয়ে পড়েন, তাহলে তাইওয়ানের দিকে উত্তেজনা ও আগ্রাসন বাড়ানো সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আরো বেশি করে শি চিনপিং, তার পছন্দ ও প্রবণতার ওপর কেন্দ্রীভূত হবে।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন
মধুখালীতে নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময়
বাঘাইছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ
