|
এ জামিন দিয়ে কী হবে- আক্ষেপ সাদ্দামের মায়ের
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() এ জামিন দিয়ে কী হবে- আক্ষেপ সাদ্দামের মায়ের জামিনে বিষয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, আমি এখন কি বলব, জামিন হইছে, আগেও জামিন চাইছি। আগে কয়েকবার জামিন হয়েছে কিন্তু বের হতে পারেনি। এখন জামিন হওয়া, আর না হওয়া সমান কথা। তারপরও জামিন হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে ও বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কী হবে? সাদ্দামের জামিনের খবরে ‘সন্তোষ প্রকাশ’ করে তার শ্বশুর জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা প্যারোলে জামিন চেয়েছিলাম, সেই জামিন না দেওয়া অমানবিক কাজ হয়েছে। সেই বিচার চাই রাষ্ট্রের কাছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বর্তমানে সে যশোর জেলা কারাগারে বন্দি আছে। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তাঁর ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পরদিন বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে দুজনের লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নেটিজেন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের মৃত একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির মেঝ ছেলে সাদ্দাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের পর বাগেরহাট ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। তবে সে সময়ও সক্রিয় ছিল ফেসবুকসহ দলীয় কর্মকাণ্ডে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিবর রহমানের জন্মদিনে তিনিসহ বাগেরহাটের বেশ কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিলে করা একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে। নিজের আইডিতে যা তিনি রিপোস্ট ও শেয়ার করেন। এর কিছুদিন পর ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর তার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদনপত্র লিখে জেলা প্রশাসন ও জেলখানায় গেছিলেন সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
