|
রাজনৈতিক সমীকরণে কুমিল্লা–২: বহিরাগত মনোনয়নে ধানের শীষের পরাজয়ের আশঙ্কা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রাজনৈতিক সমীকরণে কুমিল্লা–২: বহিরাগত মনোনয়নে ধানের শীষের পরাজয়ের আশঙ্কা সরেজমিনে হোমনা ও তিতাস উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে একাধিক যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে সেলিম ভূইঁয়াকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক ভোটারের দাবি, কুমিল্লা–২ আসনে স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি। তাঁদের মতে, সেলিম ভূইঁয়া নিজেকে হোমনার বাসিন্দা দাবি করলেও স্থানীয়দের বড় অংশ তাঁকে মেঘনা উপজেলার মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করছে। এ অবস্থায় বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস, সাবেক আমলা ইঞ্জিনিয়ার আ. মতিন খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন, যা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছেন। স্থানীয়দের একটি বড় অংশ তাঁকেই নিজেদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। ভোটারদের ভাষ্য, ক্লিন ইমেজধারী আ. মতিন খান দীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে হোমনা ও তিতাসের মানুষের পাশে ছিলেন এবং এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম ভূইঁয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও অবৈধ বালু সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করেছে। এছাড়া অতীতে আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে তিতাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে ঘিরে জনমনে আরও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, হোমনা–তিতাস এলাকায় আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য রিজার্ভ ভোট ব্যাংক রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী পরিবারের বড় অংশ ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ. মতিন খানের প্রতি ঝুঁকছে বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, আ. মতিন খান নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হবে না। এমন প্রেক্ষাপটে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ভুল প্রার্থী বাছাইয়ের কারণে কুমিল্লা–২ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই আসনে ভোটের ফলাফল রাজনীতিতে বড় চমক সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
