ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
যেদিন আবেদন, সেদিনই সাড়া : চট্টগ্রামের ডিসি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 1 January, 2026, 8:40 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 1 January, 2026, 8:52 PM

যেদিন আবেদন, সেদিনই সাড়া : চট্টগ্রামের ডিসি

যেদিন আবেদন, সেদিনই সাড়া : চট্টগ্রামের ডিসি

চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের মেলঘর এলাকার মো. কামাল উদ্দীন ও রাজু আক্তার দম্পত্তির সন্তান মো. জাহেদ উদ্দীন রানা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারলেও এরপর থেকে তিনি আর হাঁটতে পারেন না। স্কুলজীবনে মায়ের কোলে চড়েই তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়েছে।

নিজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কঠিন লড়াই চালিয়ে বর্তমানে তিনি খলিলমীর ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। রানার বাবা কামাল উদ্দীন একজন অটোরিকশা চালক। সীমিত আয়ের কারণে বাবা-মা ও ছোট বোনসহ চার সদস্যের পরিবার নিয়ে তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

নিয়মিত কলেজে যেতে না পারায় বাড়িতে বসে পড়াশোনার জন্য একজন টিউটর রাখতে হয়েছে, যার মাসিক বেতন তিন হাজার টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আজ চারটি লিখিত আবেদন নিয়ে হাজির হন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী জাহেদ উদ্দীন রানা। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও জেলা প্রশাসক দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যসহকারে রানার ও তার পরিবারের দুর্দশার কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন।” তিনি আরও বলেন, “তার আরও কিছু আবেদন রয়েছে, সেগুলোও আমরা বিবেচনা করে দেখছি।”

জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জাহেদ উদ্দীন রানা। তবে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “আগের জেলা প্রশাসকের সময়েও আমি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তখন কোনো সহায়তা পাইনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক আজ আবেদন পেয়েই আজই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সত্যিই তিনি একজন মানবিক ডিসি।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে রানা জানান, তাদের বাড়িটি পুকুরের পাশে হওয়ায় বন্যার সময় ঘরে পানি উঠে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়ে একটি ওয়াল নির্মাণসহ চারটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। “আশা করি স্যার সেগুলোও বিবেচনায় নেবেন,”—যোগ করেন এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status