|
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ দুই শতাধিক শ্রমিক
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে অনেককে টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে নিয়মিত কাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ একের পর এক শ্রমিক বমি, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকেন একেক করে। একপর্যায়ে অনেক শ্রমিক কাজের ফ্লোরেই লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে কারখানা থেকে বের হতে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু হয়। এতে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন। খবর পেয়ে সহকর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ ও আহত শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে টঙ্গীর গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল-সহ আশপাশের বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি হওয়া শ্রমিকদের অধিকাংশই মাথা ঘোরা, বমি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ভর্তী হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইকবাল চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কারখানার ভেতরে কোথাও গ্যাস লিকেজ বা তীব্র কোনো গন্ধের কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত বমি, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা- নিরীক্ষা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশ অবগত হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা কি না কিংবা কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে তারা অনীহা প্রকাশ করেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কনসেপ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। ঘটনার পর কারখানাটিতে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
