|
চট্টগ্রামের 'শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের বুইশ্যা' অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
বিধান বিশ্বাস, চট্টগ্রাম
|
![]() চট্টগ্রামের 'শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের বুইশ্যা' অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা, পড়ে গিয়ে আহত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া- সব মিলিয়ে এই গ্রেপ্তার কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। র্যাব ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ২ নম্বর গেইট এলাকার ফিনলে স্কয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে আহত হন বুইশ্যা। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের শব্দ শুনেছেন। গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা (৩৫) ভোলা জেলার দৌলতখান থানার ভাণ্ডারী বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহর এলাকার বদিউল আলম গলিতে বসবাস করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১৯টি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজি, জমি দখল ও ছিনতাইসহ নানা অভিযোগেও তার নাম রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকা ঘিরে বুইশ্যার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগেও ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। র্যাব জানায়, বুইশ্যা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্র প্রদর্শন এবং প্রতিপক্ষকে হামলার হুমকি দেওয়ার কাজে সরাসরি জড়িত ছিল। র্যাবের একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে বুইশ্যাকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান বদল করে চলাফেরা করতেন। সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সফলভাবে তাকে আটক করা হয়। র্যাব আরও জানায়, বুইশ্যার বিরুদ্ধে নগরীর একাধিক থানায় অস্ত্র আইন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গ্রুপটির অস্ত্রের উৎস, অন্যান্য সদস্য এবং সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
