ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২৬ ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শ্রীপুর মুক্ত দিবস আজ : ত্যাগ-বীরত্বে উড়েছিল প্রথম লাল-সবুজ পতাকা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Saturday, 13 December, 2025, 11:15 AM

শ্রীপুর মুক্ত দিবস আজ : ত্যাগ-বীরত্বে উড়েছিল প্রথম লাল-সবুজ পতাকা

শ্রীপুর মুক্ত দিবস আজ : ত্যাগ-বীরত্বে উড়েছিল প্রথম লাল-সবুজ পতাকা

আজ (১২ ডিসেম্বর) শ্রীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকারদের কবল থেকে মুক্ত হয় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পুরো উপজেলা। বহু ত্যাগ, রক্তঝরা সংগ্রাম ও বীরত্বগাঁথার মধ্য দিয়ে এদিন প্রথমবারের মতো শ্রীপুরের আকাশে উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রথম মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে ৭ ডিসেম্বর ভোরে উপজেলার ইজ্জতপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের ওপর। এই যুদ্ধে শহীদ হন গোসিঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কিশোর সাহাব উদ্দিন। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নিহত হন চার রাজাকার ও একজন পাক সেনা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ কমান্ডার জানান, ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে হানাদার বাহিনী শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প গড়ে তোলে। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় তারা নিরীহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও নির্যাতন চালাত।

শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ আটটি স্থানে ক্যাম্প ছিল, যার মধ্যে শ্রীপুর থানা, গোসিঙ্গা কাচারি বাড়ি, কাওরাইদ রেলস্টেশন, সাতখামাইর রেলওয়ে স্টেশন, গোলাঘাট রেলওয়ে ব্রিজ, ইজ্জতপুর ব্রিজ ও বলদি ঘাট উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা উল্লেখযোগ্য।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “৭ ডিসেম্বর ভোর ৪টার দিকে গুলি বিনিময় শুরু হয় এবং ২৭ ঘণ্টা ধরে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। রেলসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শত্রুদের বিচ্ছিন্ন করা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাত থেকেই হানাদাররা পালিয়ে যেতে শুরু করে এবং ১২ ডিসেম্বর ভোরে পুরো শ্রীপুর হানাদারমুক্ত হয়। এদিন শ্রীপুর হাসপাতালের সামনে প্রথমবারের মতো উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।”

শ্রীপুরে আজও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ হিসেবে গণকবর ও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যা স্থানীয়দের স্মরণে ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতীক। বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম মন্ডল জানান, ইজ্জতপুর ব্রিজ সেনাক্যাম্পে জেড আই সুবেদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়, গুলি বিনিময়ের একপর্যায় সাহাব উদ্দিন শহীদ হন এবং রেলসেতু ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, “শ্রীপুর সরকারি কলেজ মাঠের গণকবর সংরক্ষণ করা হয়েছে। নাম ও পরিচয় নেইম ফলকে উল্লেখ করা হয়েছে।” শ্রীপুর মুক্ত দিবস কেবল ইতিহাসের স্মৃতি নয়, বরং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও স্থানীয় মানুষের সাহসিকতার জীবন্ত প্রতীক।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status