|
ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন জোহরান মামদানি: কী আছে ভিতরে?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন জোহরান মামদানি: কী আছে ভিতরে? মামদানি বর্তমানে কুইন্সে একটি ছোট ভর্তুকিপ্রাপ্ত ফ্ল্যাটে থাকেন-এক শোবার ঘরবিশিষ্ট ওই ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৩০০ ডলার। সাশ্রয়ী আবাসন ও জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট রাজনীতিককে সরকারি ভর্তুকির ফ্ল্যাটে থাকা নিয়ে নির্বাচনী সময় থেকেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নিউইয়র্কে ভাড়া অস্বাভাবিক উচ্চ হওয়ায় বাসস্থান ইস্যুটি নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল। সমালোচনার পরেও মামদানির সিদ্ধান্ত স্পষ্ট-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার সুবিধা বিবেচনায় তিনি গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন। ছোট্ট ফ্ল্যাট থেকে ঐতিহাসিক ‘মেয়রস হাউসে’ তাঁর আগমন অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। নদীর ধারে পুরোনো বাড়ি ম্যানহাটানের আপার ইস্ট সাইডে কার্ল শুরজ পার্কের ভেতর অবস্থিত গ্রেসি ম্যানশন। কাঠের তৈরি হলুদ রঙের ফেডারেল-স্টাইলের এই বাড়ি নির্মিত হয় ১৭৯৯ সালে। ১৯৪২ সাল থেকে এটি নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হিস্টোরিক হাউস ট্রাস্ট জানায়, ইস্ট রিভারের ধারে দোতলা কান্ট্রি ভিলা হিসেবে বাড়িটির নকশা করা হয়েছিল। গ্রীষ্মে বারান্দা থেকে ইস্ট রিভারের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। বাড়িটিতে রয়েছে পাঁচটি শোবার ঘর, পাঁচটি বাথরুম, উঁচু সিলিং, বড় ফায়ারপ্লেস, আলাদা বসার ঘর ও খাবার ঘর। মেয়রের দাপ্তরিক কাজকর্মের জন্য পৃথক ব্যবস্থাও আছে। ১৯৬০-এর দশকে মূল ভবনের পাশে অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান যোগ হয়। সব মিলিয়ে ১২-১৩ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত গ্রেসি ম্যানশন-নগর কর্তৃপক্ষই এর রক্ষণাবেক্ষণ করে। ![]() ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন জোহরান মামদানি: কী আছে ভিতরে? আর্চিবল্ড গ্রেসির নির্মিতি স্কটিশ-আমেরিকান জাহাজ ব্যবসায়ী আর্চিবল্ড গ্রেসি নির্মাণ করেছিলেন এই বাড়ি-নিজের পরিবারের জন্য নিরিবিলি এক আশ্রয় হিসেবে। সে সময় বাড়িটি শহর থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। পরে আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি বাড়িটির মালিকানা হারান, তবু তাঁর নামই থেকে যায় বাড়িটির পরিচয়ে। উনিশ শতকের শেষ দিকে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ বাড়িটি অধিগ্রহণ করে এবং সরকারি সম্পত্তি ঘোষণা করে। একসময় এটি নিউইয়র্ক সিটি জাদুঘরের সাময়িক কোয়ার্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৯৪২ সালে পার্ক কমিশনার রবার্ট মোজেস তৎকালীন মেয়র ফিওরেলো লা গার্ডিয়াকে বাড়িটিকে মেয়রের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তখন কোনো সরকারি বাসভবন ছিল না। মোজেস চেয়েছিলেন নিউইয়র্কের মেয়রের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় শহরের মতো মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থানের ব্যবস্থা হোক-তাই লা গার্ডিয়ার সঙ্গে পরিবারের প্রথম আবাস হয় গ্রেসি ম্যানশন। ১৯৮১ সাল থেকে ‘পাবলিক-প্রাইভেট’ অংশীদারত্বে বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে। ২০০২ সালে মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বড় ধরনের সংস্কার করেন। এরপর থেকে বাড়িটি ‘দর্শনার্থী-বান্ধব’ হয়ে ওঠে-নামও পায় ‘দ্য পিপলস হাউস’। কে কে ছিলেন এ বাড়ির বাসিন্দা ১৯৪২ সালের পর থেকে নিউইয়র্কের বেশির ভাগ মেয়রই গ্রেসি ম্যানশনে থেকেছেন-এডওয়ার্ড কচ, ডেভিড ডিনকিনস, বিল ডি ব্লাসিও ও বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসসহ অনেকে। ব্যতিক্রম ছিলেন মাইকেল ব্লুমবার্গ। তিন মেয়াদে মেয়র থেকেও তিনি নিজের বাড়িতে থাকতেন, তবে গ্রেসি ম্যানশনে নিয়মিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। এ ছাড়া এডওয়ার্ড কচ ও রুডি জুলিয়ানির পরিবার-কেউ কেউ আংশিক সময় এখানে থেকেছেন। জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র, ছোট্ট ফ্ল্যাট থেকে ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে তাঁর ওঠা যেন এক নতুন অধ্যায়। শহরের কঠিন আবাসন বাস্তবতায় তিনি নিজেই যে সাশ্রয়ী জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতির প্রবক্তা-গ্রেসি ম্যানশনে তাঁর থাকা কি সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকে আরও গতি দেবে, না কি আরও প্রশ্ন তুলবে-তা জানতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
বাঘাইছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ
মহালছড়িতে শিক্ষা ও সম্প্রীতির বার্তা দিলো নবাগত জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ আল-জাবির আসিফ
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন
