|
এম এ গণি-মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের ২৫ বছর পূর্তি
মোহাম্মদ মাসুক আহমদ
|
![]() এম এ গণি-মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের ২৫ বছর পূর্তি শিক্ষার গুনগত মানের উন্নয়নের ব্রত নিয়ে দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজারস্হ ধরগাঁও গ্রামের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারের আলোকবর্তিকা মুহাম্মদ মুহিদুর রহমান, তাঁর মমতাময়ী মা ও বাবার নামে ২০০১ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠা করেন এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্ট”। যাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় এ মহৎ কার্যক্রমের সূচনা হয় তাঁরা হলেন এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী ও ক্রীড়া সংগঠক, সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মকব্বির আলী, তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজম আলী ও এনামুল হক বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক শিক্ষক, কামাল বাজার ফাজিল মাদ্রাসা। আজ অব্দি তাঁরাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছেন। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা তাঁদের প্রতি । প্রয়াত এম এ গণি ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মা মনোয়ারা খানম অতি দানশীল, শিক্ষানুরাগী, পরোপকারী একজন মহিয়সী নারী। শুরু থেকে শিক্ষা ট্রাস্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মুহিদুর রহমান। ২০২২ সাল থেকে এ অব্দি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর আরেক ভাই এমদাদুর রহমান। শিক্ষা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার বছর থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে প্রতিযোগীতার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য স্কুলের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়, দক্ষিণ সুরমা নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে।সেই সময়ে ভার্থখলা নিবাসী আব্দুর নুর মাস্টার ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমদ অনেক সহযোগিতা করেন। কিছু দিনের মধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবছর এই পরীক্ষায় গড়ে চার শতাধিক পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় বসে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠাতার মেজো বোন মরহুমা আয়শা খানমের নামে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু করেন। আমার জানামতে অর্থাৎ আজ থেকে ১৫ বছর আগে এ রকম প্লাটফর্ম থেকে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন একটি বিরল ঘটনা। এই প্রতিযোগীতার আয়োজন দেখে এখন, অনেক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগীতার আয়োজন করছেন, যা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক। প্রতিবছর এ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগীতায় সিলেট জেলার প্রায় দুই শতাধিক (গড়) কোরআনের পাখি অংশ গ্রহণ করে। তৎপরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠাতার দাদা দাদীর নামানুসারে, ২০১১ সাল থেকে তাঁদের নিজ বিদ্যালয় অর্থাৎ তাঁরা ভাই-বোনের যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল, সেই জালালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু করেন আম্বরআলী সফিনাবিবি চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। এতে প্রতিবছর বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৩০/৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গড়ে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে। এর কিছুদিন পর এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতির জন্য শুরু করা হয় “এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম এসএসসি ও দাখিল মডেল টেস্ট “ এটা হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও তাহির আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর গড়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এ মডেল টেস্টে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদানঃ ★শিক্ষা ট্রাস্টের জন্ম লগ্ন থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান, আসবাবপত্র, সুপেয় পানির ব্যবস্হা করে আসছে। এর মধ্যে দক্ষিন সুরমা নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র প্রদান। ★আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্হাপন। ★হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী স্হাপনের জন্য ১ লক্ষ টাকা প্রদান। ★লজ্জতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকার আসবাবপত্র প্রদান। ★তাহিরআলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ। ★গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান। শিক্ষা ট্রাস্টের কর্মপরিকল্পনায় শিক্ষা প্রতিষ্টান স্হাপনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৮ সালে কামাল বাজারে স্হাপন করা হয়, প্রতিষ্ঠাতাদের মা ও বোনের নামে আয়শা মনোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। যা বৃহত্তর কামাল বাজার এলাকায় নারী শিক্ষার একটি স্বতন্ত্র ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে এই মহিলা দাখিল মাদ্রাসা তাদের পড়াশোনা, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং এ বিশেষ অবস্থান অর্জন করেছে। নারীশিক্ষার উন্নয়নে নেপোলিয়ন বেনাপোর্ট -এর সেই বিখ্যাত উক্তি” Give me good mothers, and I shall give you a great nation,” এই উক্তির বাস্তব রূপ দিতে ২০২০ সালে এই ট্রাস্টের মাধ্যমে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র বিদ্যানিকেতন “মনোয়ারা গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” যা লিডিং ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ সম্পুর্ন বিনা বেতনে পরিচালিত মেয়েদের জন্য এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার উন্নয়নে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য । দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ পরিক্রমায় এই শিক্ষা ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষা ট্রাষ্টের বিভিন্ন কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে যারা ট্রাস্টকে এগিয়ে নিতে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক সংসদ মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আরিফুল হক চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, (উল্লেখ্য যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদাধিকার বলে শিক্ষা ট্রাস্টের উপদেষ্টা) জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুফিয়ান চৌধুরী, লুতফুর রহমান, সাবেক ভিসি কবির চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ, জেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ। সিলেট জেলার চারটি উপজেলা যথাক্রমে সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ সফল যাত্রা নিশ্চিত হয়েছে, শিক্ষা ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে সভাপতি এমদাদুর রহমান এমদাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মকব্বির আলী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এইচ এম ইসরাঈল আহমদ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আজম আলী, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, সচিব মোহাম্মদ মাসুক আহমদ, যুগ্মসচিব আবুল কালাম, অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আলম, নির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দীন, সোহেল আহমদ ও আনোয়ার হোসেন। বৃত্তি পরীক্ষার শুরুতে ২০০১ সাল থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন বেলাল আহমদ, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গিয়াসউদ্দিন, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, খসরু মিয়া যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান অনস্বীকার্য। মহান রাব্বুল আ’লামিন তাঁদের উত্তম বিনিময় দান করুন। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে জানাচ্ছি যে, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গিয়াসউদ্দিন বেশ কিছু দিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তাঁর আত্নার মাগফিরাত কামনা করি, মহান আল্লাহ যেন বেহেশত নসীব করেন। একটি শিক্ষা ট্রাটের দীর্ঘ ২৫ বছর অতিবাহিত হওয়া, এটা একটি মাত্র সংখ্যা নয়। এর সাথে যে ত্যাগ,পরিশ্রম, আর্থিক সংশ্লেষ, এতো এতো কর্মযজ্ঞ যারা করেছেন শুধু তাঁরাই অনুভব করতে পারেন, কতটুকু ঘাম ঝরাতে হয়েছে। আগামীর পথচলায় আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ, অনুপ্রেরণা, শিক্ষা ট্রাষ্টের পথ চলাকে শানিত করবে ইনশাআল্লাহ। মোহাম্মদ মাসুক আহমদ সদস্য সচিব, এম এ গণি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্ট।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
