|
বিহার নির্বাচন: কে জিতলো, কে হারলো; কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বিহার নির্বাচন: কে জিতলো, কে হারলো; কেন গুরুত্বপূর্ণ? শুক্রবার ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনডিএ জোট ২০২টি আসনে জয়ী হয়েছে বা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতৃত্বাধীন বিরোধী মহাগঠবন্ধন মাত্র ৩৫টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে। এই ভূমিধস জয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই বিজেপি নেতারা বিহারের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। মোদির ভাষায়, এ ফলাফল শুধু তার জোটের বিজয় নয়, 'গণতন্ত্রেরও বিজয়'। অন্যদিকে, পরাজয়ের পর ভোটের ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, 'আমরা এমন একটি নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারিনি যা শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিলো না।' সবার নজর যেখানে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল দুটি আসন—রাঘোপুর ও আলীনগর। রাঘোপুর দীর্ঘদিন ধরে আরজেডির শক্ত ঘাঁটি এবং দলের কার্যত প্রধান তেজস্বী যাদবের পারিবারিক আসন। ভোট গণনার এক পর্যায়ে বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে চূড়ান্ত গণনায় প্রায় ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে পরপর তৃতীয়বারের মতো এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তেজস্বী। অন্যদিকে, আলীনগর আসনে জনপ্রিয় লোকশিল্পী ও বিজেপি প্রার্থী মৈথিলী ঠাকুর শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্য দিয়ে। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে 'স্পেশাল ইন্টেসিভ রিভিসশন' (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ৪৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দরিদ্র, দলিত এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা ঐতিহ্যগতভাবে মহাগঠবন্ধনের সমর্থক।[ তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যদিও ভোটের ফলাফলে এই বিতর্ক বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। ফলের তাৎপর্য প্রায় ১৩ কোটি মানুষের রাজ্য বিহার ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জনবহুল প্রদেশ এবং জাতীয় রাজনীতিতে এর বড় প্রভাব রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৬৬ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা রাজ্যটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রেকর্ড সংখ্যক নারী ভোটার উপস্থিতি এনডিএ-র বিপুল জয়ের অন্যতম কারণ। বিহারের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী এবং দীর্ঘ বছর ধরে তাদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে। এ বছর রাজ্যটিতে নারীদের ভোটদান হার ছিল ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ—বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। উভয় জোটই নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নীতীশ কুমারের কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো নারী ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এই ফলাফলকে আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে বিজেপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিহারে এই জয় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির জয়ের ধারাকে আরও শক্তিশালী করল। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি ভোটাররা আস্থা রেখেছেন। অন্যদিকে, আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদবের আমলের 'জঙ্গলরাজ'-এর স্মৃতি এবং বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিহারের রাজনীতিতে দুই প্রবীণ নেতা নীতীশ কুমার ও লালু প্রসাদ যাদবের প্রায় চার দশকের প্রভাব বলয়ের একটি সম্ভাব্য সমাপ্তি দেখছেন অনেকে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
