|
অনিশ্চিত সরিষার আবাদ
তাড়াশে কাটাগাঙে সোঁতিজাল, পানি প্রবাহ বন্ধ হলেও নির্বিকার প্রশাসন
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
|
![]() তাড়াশে কাটাগাঙে সোঁতিজাল, পানি প্রবাহ বন্ধ হলেও নির্বিকার প্রশাসন তাদের দাবি প্রশাসন দ্রুত এসব অবৈধ সোঁতিজাল অপসারণ করে তাদের কে রবিশষ্যের আবাদের সুযোগ করে দিবেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলনবিলের সিংড়া,গুরুদাসপুর,ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার বর্ষার পানি নিষ্কাশন হয় কাটাগাঙ দিয়ে। বিগত সরকারের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কাটাগাঙ সংষ্কার করা হলে, আশ্বিণের মাসের শেষেই পানি নেমে যায়। এ কারণে এ অঞ্চলের কৃষক বোরোধান চাষের আগে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করে লাভবান হয়ে আসছেন। কিন্তু এ বছর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ সোঁতিজাল পাতায় তাদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছরে তাড়াশ উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব আবাদী জমির সিংহভাগ পড়েছে চলনবিল অংশে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুন্দইল ব্রিজের দক্ষিণ পাশে কাটাগাঙে অবৈধ সোঁতিজাল পেতে মাছ শিকার করছে কুন্দইল গ্রামের প্রবাভশালী বুরজু সরদারে ছেলে সোহেল রানা, মোক্তার হোসেনের ছেলে কামরুল হাসান, আরজু রহমানের ছেলে আরিফ আহমেদ, দিদার আলীর ছেলে রিপন হোসেন ও ইউনুস আলীর ছেলে জমির উদ্দিন। তারা সংঘবদ্ধভাবে কাটাগাঙের দুপাশে আড়াআড়ি ভাবে বাঁশের চাটা, খোলপা ও মিহি কারেণ্টজাল দিয়ে সোঁতিজাল পেতে অবাধে মাছ শিকার করছে। এসব জালে শুধু মাছ নয় বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণি নির্বিচারে মারা পড়ছে। এতে করে পানির প্রবাহের ধীরগতির পাশাপাশি চলনবিলের জীববৈচিত্র হুমকীর মুখে পড়েছে। কুন্দইল পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৮ নং ব্রিজ পর্যন্ত মোট ছয়টি পয়েন্টে সোঁতিজাল পেতে প্রভাবশালীরা মাছ ধরছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। কুন্দইল গ্রামের বাসিন্দা সুমন,দীঘিসগুনা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম,আলামিন ও কামারশোন গ্রামের সেরাজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সোঁতিজালের কারণে বিলের পানি নামতে দেরী হচ্ছে। এ কারণে সরিষার আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না করলে এ অঞ্চলের কৃষকদের সমূহ ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, চলনবিলের পানি নামার শেষের দিকে মাছ শিকার করতে বিভিন্ন অবৈধজাল পাতেন এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ। এতে করে একদিকে পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয় অপরদিকে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়। যা প্রাণপ্রকৃতির উপর বড় ধরণের আঘাত। আমরা এসব অবৈধ সোঁতিজাল উচ্ছেদ করতে মৎস্য বিভাগের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
