সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের মিথ্যা মামলায় তিন বছর কারাভোগ করেছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম। সম্প্রতি মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। তবে এই তিনটি বছর জাহালম অর্থিক ও পারিবারিক ও আর্থিকভাবে সম্মূখীন হয়েছে।
মিথ্যা মামলায় অব্যহতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে তাকে তাকে ক্ষতিপূরণ চাইতে দেখা গেছে। তবে তিনি কী ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ প্রশ্ন এখন অনেকের।
জাহলমের আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন হাইকোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু।
আবদুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, দুদকের মিথ্যা মামলায় তিন বছর কারাভোগ করেছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম।এ ধরনের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। তবে অবশ্যই মামলা করতে হবে।
তিনি বলেন,মিথ্যা মামলায় দোষীদের শাস্তি ও অর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলা করা যাবে।এই মামলার শাস্তি হচ্ছে ২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এছাড়া উভয় শাস্তি হতে পারে।
এই আইনজীবী আরো বলেন,এ ধরনের ঘটনায় অবশ্যই প্রতিকার চেয়ে মামরা করা উচিত। তবে হাইকোট চাইলে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করতে পারেন।
সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। মামলা ও পরবর্তী সময়ে ২৬টি মামলার চার্জশিটে সালেকের নাম ব্যবহার করা হলেও জাহালমকে সালেক নামে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। অথচ জাহালম তাদের বাড়ি থাকেন না। তিনি কাজ করেন নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক হিসেবে।
মামলার চার্জশিট হওয়ার পর জাহালমের বিরুদ্ধে আদালত থেকে তিন বছর আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।
অনুসন্ধানকালে জাহালম দুদককে বলেছিলেন, তিনি আবু সালেক নন। সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও তার নয়। কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা অনুসন্ধানকালে জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন।
পরে আদালতেও জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তোলেননি। এমনকি দুদকের পিপিরাও বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা করেননি। যে আদালতে বিচার চলছে সেই আদালতের বিচারকও বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনায় নিলে জাহালমকে বিনা কারণে তিন বছর জেলে থাকতে হতো না।
শেষ পর্যন্ত কারও কাছে সমাধান না পেয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহানূর মিয়া গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হন। তার আবেদনে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম এক ব্যক্তি নন।
এ নিয়ে ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের নজরে আনেন একজন আইনজীবী। পরে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ জাহালমকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির আদেশ দেন।