ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
লোহার শিকলে বন্দী আকাশের আকুতি—‘আমি পড়াশোনা করতে চাই’
মোঃ মাহবুবুল হাসান, চিলমারী
প্রকাশ: Wednesday, 17 September, 2025, 8:39 PM

লোহার শিকলে বন্দী আকাশের আকুতি—‘আমি পড়াশোনা করতে চাই’

লোহার শিকলে বন্দী আকাশের আকুতি—‘আমি পড়াশোনা করতে চাই’

আকাশের বয়স সবে মাত্র ১৬ পেরিয়ে ১৭তে পা রেখেছে। যে বয়সে পড়ার টেবিলে মনোযোগী হওয়ার কথা, বিকেল হলে মাঠে খেলাধুলায় মেতে ওঠার কথা, ঠিক সেই সময়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দী হয়ে জীবনযাপন করছে আকাশ। পরিবার বলছে, সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে আকাশ ফিরতে পারবে তার স্বাভাবিক জীবনে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আকাশ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পশ্চিম খরখরিয়া এলাকার সাজু মিয়া ও আকলিমা দম্পতির সন্তান।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে আকাশ মানসিক ভারসাম্য হারায়। এর মধ্যে একসময় সে হারিয়ে যায়, পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যায়। সঠিক চিকিৎসার অভাবে কখনো ভালো আবার কখনো অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে আকাশ। গত তিন মাস ধরে লোহার শিকলে বন্দী হয়ে বাড়িতেই কাটছে তার জীবন। এর আগে তার পায়ে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল, তখন পায়ে কেটে যায়। পরে সেটি খোলা হলে আবার পায়ে লাগানো হয় লোহার শিকল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছেলেটিকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে খুব ভালো ছেলে। দুই বছর আগে হঠাৎ করেই মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা করালে কিছুটা সুস্থ হয়েছিল, কিন্তু গত তিন মাস ধরে মানসিক ভারসাম্য বেশি নষ্ট হওয়ায় পরিবার বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখছে। আমরা স্থানীয়ভাবে অনেক সহযোগিতা করেছি। তবে যদি কোনো বিত্তবান ব্যক্তি এগিয়ে আসেন, তাহলে ছেলেটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

মুকুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, “ছেলেটা এমনিতেই খুব ভালো। কীভাবে এমন হলো তা আমরা নিজেরাও জানি না। তার বাবা কৃষিকাজ করে কোনোমতে খাবার জোগাড় করেন, চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা। তবে সঠিক চিকিৎসা হলে আমার বিশ্বাস ছেলেটি সুস্থ হয়ে উঠবে।”

আকাশ জানায়, সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনা করতে চায়। এজন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে সে।

আকাশের মা আকলিমা বলেন, “ছেলের মাথায় সমস্যা। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, আটকানো যায় না, ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তাই বাধ্য হয়ে তিন মাস ধরে শিকল পরিয়ে রাখতে হচ্ছে।”

আকাশের বাবা সাজু মিয়া জানান, দিনমজুরের কাজ করে ছেলের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দিনমজুরের আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে চিকিৎসা খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড় ছেলে ঢাকায় থাকে, মেয়েকেও বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন এই ছেলের চিকিৎসা ভালো কোনো জায়গায় করাতে পারলে সুস্থ হয়ে উঠত। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

চিলমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অ.দা) নাজমুল হাসান বলেন, আকাশকে প্রতিবন্ধী কার্ড প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তার চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্বও সমাজসেবা দপ্তরের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status