ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৭ মে ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পশ্চিমে সূর্য ওঠার আলামত! সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 16 September, 2025, 1:11 PM

পশ্চিমে সূর্য ওঠার আলামত! সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

পশ্চিমে সূর্য ওঠার আলামত! সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

পূর্ব আকাশে সূর্যের সোনালি কিরণ, এই চিত্র মানবজাতির কাছে হাজার বছর ধরে পরিচিত। প্রভাত মানেই পূর্ব দিগন্তে আলোর আবির্ভাব, আর দিনের অবসান মানেই সূর্যের পশ্চিমে অন্তর্ধান। কিন্তু বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের সাম্প্রতিক মেলবন্ধন বলছে, একদিন এই দৃশ্যও বদলে যেতে পারে! 

বিজ্ঞানীরা আজ যে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তা ইসলামের দীর্ঘদিনের কেয়ামতের আলামতের প্রতিধ্বনি। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণীর সাথে আজ মিলে যাচ্ছে বিজ্ঞান। 

পৃথিবী ঘুরছে এক বিশাল চৌম্বক বলয় বুকে নিয়ে, যার উৎপত্তি পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা গলিত লোহার প্রবাহ থেকে। এই চৌম্বক ক্ষেত্র শুধুই প্রযুক্তি বা দিক নির্দেশনায় কাজ করে না, এটি পৃথিবীর নিরাপত্তা ঢাল হিসেবেও কাজ করে।

বিজ্ঞান বলছে, প্রতি কয়েক লাখ বছর অন্তর এই চৌম্বক মেরু উল্টে যায়। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার বছর আগে, যা পরিচিত "ব্রুনস-মাতোয়ামা বিপরীতকরণ" নামে। এখন, গবেষকদের মতে, সেই রূপান্তরের ইঙ্গিত আবার স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী ড্যান লেথ্রপ সম্প্রতি জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণ চৌম্বক মেরু ইতিহাসে বহুবার স্থান বদল করেছে। এমনকি পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের ঘূর্ণন সাময়িকভাবে থেমে গিয়ে উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে, এমন ইঙ্গিতও মিলেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়।

এর অর্থ, মেরু পরিবর্তনের গতি বেড়ে যেতে পারে। ফলে এমন এক সময় আসতে পারে, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে উদিত হবে, যা ছিল এতদিন শুধুই ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। 

চৌম্বক মেরু উল্টানোর প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর চৌম্বক বলয় দুর্বল হয়ে পড়ে, যার পরিণতিতে ঘটতে পারে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের রেডিয়েশন সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে, স্যাটেলাইট ও জিপিএস ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে এমনকি পাখি, কচ্ছপসহ অভিবাসী প্রাণীদের দিক নির্ধারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এর ফলে। 

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু প্রযুক্তি নয়, মানব সভ্যতার বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ওপরও পড়তে পারে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বহু পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন সূর্য পশ্চিমে ওঠার বিষয়ে। তিনি বলেছেন, “যতদিন না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে, ততদিন কেয়ামত হবে না। আর যখন তা ঘটবে, তখন সকলেই ঈমান আনবে; কিন্তু সেই ঈমান তখন আর গ্রহণযোগ্য হবে না।"
(সহিহ বুখারি) 

এই হাদিসে বর্ণিত সেই কেয়ামতের আলামত, আজ যেন বিজ্ঞানের আলোতেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যদিও এখনই পৃথিবীর ঘূর্ণন হঠাৎ উল্টে যাবে—এমন কোনও জরুরি আশঙ্কা বিজ্ঞানীরা করছেন না, তবে তাঁরা বলছেন, চৌম্বক মেরুর পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার প্রস্তুতি না থাকলে মানবজাতি হঠাৎ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

বিজ্ঞানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ আর ইসলামের ভবিষ্যদ্বাণী, দুটিই আজ এক বিন্দুতে এসে মিলছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status