|
কুড়িগ্রামের নগাশ্বরীতে সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
আহম্মেদুল কবির,কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামের নগাশ্বরীতে সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার এঘটনায় এলাকায় একদিকে শোকের মাতন ওপর দিকে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলাধীন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ছিট মালিয়ানি এলাকায়। জানা যায়, ওই এলাকার মশিউর রহমান মুছা ও মনজু দম্পতির শিশুপুত্র মুরসালিন শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ প্রতিবেশী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২২) বলাৎকারের পর তাকে হত্যা করে লাশ গোপন করতেই সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে রেখেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক মমিনুল পলাতক রয়েছে। ঘটনার দিন শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুরসালিনের বাড়িতে তার বড় ভাই মিমের বিয়ের আলোচনা চলছিলো। এ সময় মমিনুল ইসলাম মুরসালিনকে একাধিকবার ডেকে পাঠায়। পরে সে এক সময় নিজে ডেকে নিয়ে তার ঘরের ভেতরে দরজা বন্ধ করে মোবাইলে ভিডিও প্রলোভনে বলাৎকার করে মেরে ফেলেছে। তারা জানান শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরসালিনের মা ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মমিনুলের বাড়িতে গিয়ে মুরসালিনের কথা জিজ্ঞাসা করলে মমিনুল ও তার মা মহসেনা বেগম মুরসালিনকে দেখেনি বলে জানায়। কিছুক্ষণ পর আবারও গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা দরজায় তালা লাগিয়ে সটকে পড়ে মমিনুলের নানা মহর উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে মমিনুলের মা মনজু বেগম ও নানী মেহরা বেগম প্রতিবেশি নজরুল ইসলাম ও আজির রহমানের বাড়িতে আত্মগোপন করে। মুরসালিনকে না পেয়ে শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করেন তার পরিবার। গতকাল শনিবার খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে মমিনুলের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে পা দেখে বুঝতে পারেন। পরে ৯৯৯ এ ফোন করলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মমিনুলের মা, বাবা, বোন, নানা, নানি নজরুলের বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মমিনুলের নিজ বাড়ি ও তার নানার বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভালেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মমিনুলের মা মহসেনা বেগম, বোন ফাহিমা খাতুন এবং মমিনুলের পরিবারকে প্রশ্রয় দিয়ে পালানোর সহযোগিতা করায় প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মঞ্জু বেগম ৪ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুল আসামি মমিনুলসহ বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
