|
একরাতেই রুমি থেকে রাফি, এলাকায় চাঞ্চল্য
সিরাজ আল মাসুদ, টাঙ্গাইল
|
![]() একরাতেই রুমি থেকে রাফি, এলাকায় চাঞ্চল্য মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার পরে চেহারা, শারীরিক গঠন, কথাবার্তা ও আচার আচরণেও এসেছে পরিবর্তন। তাকে দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে শত শত লোকজন ভিড় করছেন বাড়িতে। হরমোনজনিত কারণে এমনটা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের পুরাবাসা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও হাজেরা বেগমের মেয়ে রুমি। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। স্থানীয় দারোগালী নগর সুন্দইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া রুমির জন্য নিয়মিত আসতে থাকে বিয়ের প্রস্তাব। মেয়ে বড় হওয়ায় পাত্রের সন্ধান করতে থাকেন বাবা রফিকুল ইসলাম। তবে কোনভাবেই বিয়েতে রাজি হচ্ছিলনা রুমি। রাজি হবেই বা কেমন করে। একবছর আগের থেকেই তার শারীরিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। কিছুদিন আগে সে বিষয়টি তার নানাকে খুলে বলে। ওই সময় থেকেই রুমির মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরিবার। রুমি ওরফে রাফি আহমেদ নিলয় জানায়, সখীপুরের ফাইলার পাগলার মেলা থেকে ফিরে একরাতেই তার এমন হয়েছে। বিয়ের প্রস্তাব আসায় সে তার নানাকে সব খুলে বলে। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে তা প্রকাশ করে। বড় হয়ে চাকরি করে পরিবারের হাল ধরার ইচ্ছে তার। বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, মেয়ে বড় হওয়ায় গত একবছর ধরে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকি। কিন্তু সে ( রুমি ওরফে নিলয়) কিছুতেই রাজি হচ্ছিলো না। পরে ওর নানার কাছ থেকে ঘটনা জানতে পারি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তারও ছেলে হওয়ার কথা জানান। এখন ওকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। বর্তমানে ওর নাম দেওয়া হয়েছে রাফি আহমেদ নিলয়। সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই। স্থানীয়রা জানান, রুমি মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত স্কুলে যেতো। মিশতো তাদের সাথেই। কিছুদিন আগে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তর হওয়ার বিষয়টি শুনে তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা। নাম দেওয়া হয়েছে রাফি আহমেদ নিলয়। সে এখন গ্রামের সকল ছেলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়। প্রতিদিন লোকজন ভিড় করায় একটু লজ্জাও পায় সে। নিলয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাহাউদ্দীন সরোয়ার রিজভী বলেন, রুমি ওরফে নিলয়ের বাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
