|
সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিষ্ফোরণের অভিযোগ পুলিশ সুপারের
এস এম সাখাওয়াত জামিল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
|
![]() সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিষ্ফোরণের অভিযোগ পুলিশ সুপারের সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। একই সাথে তিনি এসব ঘটনায় দৈনিক মানবজমিন ও নাগরিক টিভি’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহম্মেদ চৌধুরীর সম্পৃক্ততার কথাও নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে করা সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানান, জেলা যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরীর জন্মস্থান হচ্ছে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন। ফলে রাজনৈতিকভাবে তিনি সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেতে চান। কিন্তু বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ১৫ বছর ইসলামপুর তেরোরশিয়ায় আধিপত্য করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জিয়া মেম্বার। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই বিগত ৫ আগষ্টের পর জিয়া মেম্বারকে কোনঠাসা করতে এবং এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তারে দফায় দফায় এলাকায় ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটান সাংবাদিক ফারুক, যা রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে তিনি নানা মিথ্যা সংবাদও পরিবেশন করেন। তিনি আরো বলেন, ইসলামপুর তেররশিয়া পোড়াগ্রামে ককটেল বিষ্ফোরণ ও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এটি কোন রাজনৈতিক সংঘাত বা সরকার বিরোধী অপচেষ্টা নয় বা আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মধ্যে আধিপত্য কেন্দ্রিক সংঘর্ষও নয়। বরং মহানন্দা ও পদ্মা নদীর বালু ও মাটি কাটাকে কেন্দ্র করেই মুলত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সবশেষ চলতি মাসের ১১ তারিখ শুক্রবার ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আর এই দ্ব›দ্ব সংঘাতের একটি পক্ষে জিয়া মেম্বার এবং আরেকটি পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাংবাদিক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী। তবে এই ককটেল বিষ্ফোরণ প্রথমে সাংবাদিক ফারুকের পক্ষের লোকজন ঘটালে অন্যপক্ষ নিজেদের রক্ষার্থে পাল্টা ককটেলের বিষ্ফ্রেণ ঘটান। যা গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাংবাদিক ফারুক স্থানীয় নেতৃত্ব ও দাপট ধরে রাখার জন্য এবং পারিবারিক দ্ব›েদ্ব তার নিজের অপরাধ আড়াল করতেই এই ভীতিকর পরিস্থিতিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের তান্ডব বলে তার কয়েকজন সহকর্মীর গণমাধ্যমে সুকৌশলে অতিরঞ্জিত মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফলাও করে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে পরিস্থিতি আরো উত্তেজিত করেছেন। যা বস্তুনিষ্ঠ নয় এবং সম্পূর্ণ একপেশে বলে পুলিশ সুপার দাবি করেন। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা তদন্তে দুই পক্ষের মধ্যে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র কর্মী এবং সমর্থকদের জড়িতর সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশ তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে। তবে অপরাধীরা যেই রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রæতি দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৫ জুন রবিবার সাংবাদিক ফারুকের নির্দেশে জিয়া পক্ষের শহিদুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আর এ ঘটনায় সাংবাদিক ফারুককে ১ নম্বর আসামী করে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ককটেল বিষ্ফোরণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে থানায়। এসব মামলার আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে গ্রাম্য রাজনীতিতে কোন সম্পৃক্তা নেই দাবী করে অভিযুক্ত সাংবাদিক ফারুক আহম্মেদ জানান, পুলিশ সুপারের বক্তব্যে একটি পক্ষ উৎসাহিত হবে এবং এলাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সব অপরাধের খুঁটি যে রাজনীতি সেটি পুলিশ সুপার অস্বীকার করেছেন। আমার প্রকাশিত সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের কোন কর্মকর্তা সেটির অপব্যাখ্যা করতে পারেন না। পুলিশ সুপার গণমাধ্যম্যের সামনে আমাকে ভিলেজ পলিটিক্সের একটি পক্ষের নেতা বানিয়ে দিলেন। কিন্তু ঘটনার সাথে জড়িতরা আমার চাচা-চাচাতো ভাই। আমি তাদের নেতা নই বা ইসলামপুর ইউনিয়নের কোন বিষয়ে আমি সুবিধাভোগী নই। তবে ওই এলাকার আরেক মাষ্টার মাইন্ড জিয়া মেম্বারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত, গত ছয় মাসেরও অধিক সময় ধরে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া ও লক্ষীনারায়নপুর এলাকায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভূরুঙ্গামারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ
বাঘাইছড়িতে দমকা হাওয়ায় গাছ পালা ভেঙ্গে জনদুর্ভোগ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ
