ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
তেঁতুলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ
মুস্তাক আহমেদ, পঞ্চগড়
প্রকাশ: Wednesday, 25 June, 2025, 3:10 PM

তেঁতুলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ

তেঁতুলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ

সাধারণত বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমান বৃদ্ধি পেলে পরিবেশ ও আবহাওয়ার উপর যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় মোটাদাগে এটাই হল জলবায়ু পরিবর্তন । কলকারখানার কালো ধুয়া  যখন বায়ু মন্ডলে অবস্থান নেয় তখন প্রাকৃতিক সৃষ্ট মেঘ ও বৃষ্টি সঠিক সময়ে হয়না বিধায় সৃষ্টি হয় অতি গরম ও বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি। ক্ষতিগ্রস্থহয় এর সঙ্গে সংশিষ্ট জীবন ও জীবিকা দাম।

একদল চা গবেষক উনিশ শতকের শেষ দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক নদীর পারে এসে দাড়ালেন । তারা এ অঞ্চলে চা চাষের কথা ভাবছেন । এর মধ্যে রয়েছেন দুজন আমেরিকান উদ্যোক্তা ও চা গবেষক। প্রথমে তারা মাটি পরীক্ষা করলেন এরপর সিলেট থেকে আনা চায়ের চারা রোপন করলেন । 

এরপর থেকেই শুরু হল চায়ের বাণিজ্যিক সফল চাষাবাদ। কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠান তেঁতুলিয়া উপজেলার অনূর্বর বালি জমি ভরে দিলেন সবুজে সবুজে। প্রাণ ফিরে পেল তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি ও পরিবেশ।

এই চা বাগানের সবুজায়ন তেঁতুলিয়ার একটি বৃহৎ অংশ জুরে বিস্তৃত । এশিয়ান হাইওয়ের দু পাশে এমনকি শাখা প্রশাখার রাস্তাগুলোর ডানে বামে র্দীঘমেয়াদী এই চায়ের বাগান যেন সবুজের প্রান্তর। এই সবুজ ধরে রেখেছে এ অঞ্চলের জলবায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চলের পর্যটন খাতের ক্ষতি মাঝে মাঝে পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাথিত করে। সাধারণত বায়ুমন্ডল পরিস্কার থাকলে অক্টোবর ও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে । কিন্তু বায়ুমন্ডল অথবা আকাশ পরিস্কার না থাকলে নভেম্বরেও দেখা পাওয়া যায়না এই ভাগ্যরুপি কাঞ্চনজঙ্ঘার। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের পথভষ্ট করে দেয়। তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । কারণ কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্যটকদের মূল আর্কষণ । 

এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকলে। কলকারখানা কালো ধুয়া আর বায়ুমন্ডে ধুলাবালি মিলিয়ে যে মরিচিকা তৈরী করে তা তেঁতুলিয়ার পর্য়টন শিল্পে বিরুপ প্রভাব ফেলে । এর জন্য চাই বিকল্প বিনোদন ব্যবস্থা ও জলবায়ু ফান্ড। যা ক্ষতিগ্রস্থ পর্যটকদের পাশে দাড়াবে। তৈরী হবে নতুন নতুন বিনোদন কেন্দ্র।

তেঁতুলিয়া পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী নতুন নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরী । এর মধ্যে পাথর ও বালি উত্তোলনে থাকতে হবে  সঠিক ব্যবস্থাপনা । সবুজ শহর গড়ে তুলতে পরিকল্পিত গাছ লাগানো পরিকল্পনা । জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পর্যটন খাতের ক্ষতিপুরণে উদ্যোগ । পাথর ক্রাসিং মেশিনের ধুলাবালি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের উপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলছে সে ব্যাপারে প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা । পাথর ও বালি পরিবহনে চাই পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনা। 

প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে সচেতন থাকার সঠিক প্রচারণা ও শব্দ দুষন নিয়ে পারস্পরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ।  ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনায় পরিবেশ বান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি । কৃষি ও প্রান প্রকৃতি সুরক্ষায় যথাযথ আইনের বাস্তবায়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধি । কারখানার বর্জ্য অপসারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিকল্পনার মূল্যায়ন সহ নদী ও পানি দুষণে গৃহীত পদক্ষেপ এর সঠিক বাস্তবায়ন।

প্রাণ প্রকৃতি বিষয়ক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা কারিগরের প্রধান নির্বাহী সরকার হায়দার মনে করেন তেঁতুলিয়ায় এখন আর শিল্প কারখানার দরকার নাই। তিনি বলেন আমরা সবুজে থাকতে চাই। তেঁতুলিয়ার আগামী ভবিষ্যত  হোক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে।  

 

 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status