ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১ মে ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সীমান্তে অনিয়মিত অনুপ্রবেশে প্রশ্ন তুলছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা
ক্রমাগত বাড়ছে পুশ-ইন, ভারতের লক্ষ্য কী? উদ্বেগে বিশ্লেষকরা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 14 May, 2025, 2:45 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 15 May, 2025, 8:12 PM

ক্রমাগত বাড়ছে পুশ-ইন, ভারতের লক্ষ্য কী? উদ্বেগে বিশ্লেষকরা

ক্রমাগত বাড়ছে পুশ-ইন, ভারতের লক্ষ্য কী? উদ্বেগে বিশ্লেষকরা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশ-ইনের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে জটিল ও দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুশ-ইনের মতো ঘটনায় সরকার সামান্যতম দুর্বলতা দেখালেই পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তাই দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পেহেলগাম আক্রমণকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও, এরই মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন শুরু করে ভারত।

৮ মে থেকে টানা চার দিন মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ৭৪ জনকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। আবার ৭ মে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে যে ৬৬ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে, তাদের সবাই ভারতীয় নাগরিক। একইদিন কুড়িগ্রামের রৌমারি ও ভুরুঙ্গামারি সীমান্ত দিয়েও ৩৬ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত সরকার।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দিল্লিতে কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, “ভারত থেকে বাংলাদেশে যে পুশ-ইনের সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। উদ্বেগজনক এ কারণে যে, দুদেশের মধ্যে এই ধরনের পরিস্থিতি উদ্ভব হলে তার নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিক রীতিনীতি যেমন রয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সহযোগিতার চুক্তিও রয়েছে।”

ভূরাজনীতি বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল বলেন, “ভারতের সাথে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি ঘটেছে, সেটা এই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট এর মাধ্যমে, পুশ-ইনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘায়িত এবং জটিল আকার ধারণ করতে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা। সুতরাং সেখানে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ করা উচিত। যদি বাংলাদেশি নাগরিক থাকে, তাদেরকে আনার পর পদ্ধতিগত বিষয়টি ফলো করলে আমার মনে হয়, সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যাবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অনৈজ্য ও আগ্রাসী আচরণের পেছনে ভারতের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, এই ইস্যুতে ন্যূনতম ছাড় দেয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট ডেকে আনবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে একটি ইন্টারিম গভর্নমেন্ট থাকার কারণে ভারত হয়তো এই সুযোগ নিতে চাচ্ছে, অথবা পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমাদের উচিত সেই সুযোগ ভারতকে না দেওয়া এবং অনতিবিলম্বে কূটনৈতিকভাবে, একইভাবে সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে এই পুশ-ইন বন্ধ করা।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল বলেন, “কোন অবস্থাতেই এখানে ছাড় দেওয়া যাবে না। যদি সামান্য দুর্বলতা বাংলাদেশ দেখায়, তাহলে পুশ-ইনের মাত্রা এবং সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। যেটা বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের একটি সমস্যার জন্ম দিতে পারে।”

পরিশেষে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status