|
সীমান্তে অনিয়মিত অনুপ্রবেশে প্রশ্ন তুলছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা
ক্রমাগত বাড়ছে পুশ-ইন, ভারতের লক্ষ্য কী? উদ্বেগে বিশ্লেষকরা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ক্রমাগত বাড়ছে পুশ-ইন, ভারতের লক্ষ্য কী? উদ্বেগে বিশ্লেষকরা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুশ-ইনের মতো ঘটনায় সরকার সামান্যতম দুর্বলতা দেখালেই পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তাই দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পেহেলগাম আক্রমণকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও, এরই মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন শুরু করে ভারত। ৮ মে থেকে টানা চার দিন মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ৭৪ জনকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। আবার ৭ মে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে যে ৬৬ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে, তাদের সবাই ভারতীয় নাগরিক। একইদিন কুড়িগ্রামের রৌমারি ও ভুরুঙ্গামারি সীমান্ত দিয়েও ৩৬ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত সরকার। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দিল্লিতে কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, “ভারত থেকে বাংলাদেশে যে পুশ-ইনের সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। উদ্বেগজনক এ কারণে যে, দুদেশের মধ্যে এই ধরনের পরিস্থিতি উদ্ভব হলে তার নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিক রীতিনীতি যেমন রয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সহযোগিতার চুক্তিও রয়েছে।” ভূরাজনীতি বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল বলেন, “ভারতের সাথে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি ঘটেছে, সেটা এই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট এর মাধ্যমে, পুশ-ইনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘায়িত এবং জটিল আকার ধারণ করতে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা। সুতরাং সেখানে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ করা উচিত। যদি বাংলাদেশি নাগরিক থাকে, তাদেরকে আনার পর পদ্ধতিগত বিষয়টি ফলো করলে আমার মনে হয়, সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যাবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অনৈজ্য ও আগ্রাসী আচরণের পেছনে ভারতের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, এই ইস্যুতে ন্যূনতম ছাড় দেয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট ডেকে আনবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে একটি ইন্টারিম গভর্নমেন্ট থাকার কারণে ভারত হয়তো এই সুযোগ নিতে চাচ্ছে, অথবা পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমাদের উচিত সেই সুযোগ ভারতকে না দেওয়া এবং অনতিবিলম্বে কূটনৈতিকভাবে, একইভাবে সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে এই পুশ-ইন বন্ধ করা।” ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল বলেন, “কোন অবস্থাতেই এখানে ছাড় দেওয়া যাবে না। যদি সামান্য দুর্বলতা বাংলাদেশ দেখায়, তাহলে পুশ-ইনের মাত্রা এবং সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। যেটা বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের একটি সমস্যার জন্ম দিতে পারে।” পরিশেষে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান, ২টি এস্কেভেটর অকেজো
প্রবাসীদের জন্য দেশে প্রথম অনলাইন গণশুনানি: চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদের মাইলফলক উদ্যোগ
বেইলি ব্রিজের পাটাতন ধসে ট্রাক আটকা, বিচ্ছিন্ন দীঘিনালা–মাইনি সড়ক যোগাযোগ
দর্শনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিককে মারধরে প্রতিবাদে দামুড়হুদা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা
