|
বাবার বিক্রি করে দেওয়া সেই শিশু অবশেষে ফিরলো মায়ের কোলে
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বাবার বিক্রি করে দেওয়া সেই শিশু অবশেষে ফিরলো মায়ের কোলে সোমবার (১২ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি এই নির্দেশ দিয়েছেন। পরে শিশুটির মা পপি বেগমের কোলে তুলে দেয়া হয় তানহাকে। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়। শিশু তানহা, তানহার গর্ভধারিনী মা এবং পালক মা-বাবা ও স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে সেখানে। এর আগে শনিবার বিকালে শিশুটিকে ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্প এর সদস্যরা উদ্ধার করে নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করেন। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার আদালতে হাজির করা হয় শিশুটিকে। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, মামলার বাদী পপি বেগম দীর্ঘদিন যাবৎ শিশুটিকে ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশক্রমে র্যাব বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে নগরকান্দা থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন। আশা করি আমরা ন্যায় বিচার পাব। দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা পপি বেগম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমি আমার কলিজার টুকরাকে ফিরে পেয়েছি। আমি যেন আর হয়রানির শিকার না হই। আদালত যেন আমাকে ফিরিয়ে দেয়। একই সাথে তিনি বাচ্চার বাবা কাইয়ুমের বিচার দাবি করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার মামলার ধার্য্য তারিখ ছিলনা। তবে ভিকটিমের নামে সার্স ওয়ারেন্ট ছিল। দুধের বাচ্চায় হওয়ায় পরবর্তী ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত শিশু তানহা মায়ের জিম্মায় থাকবে। পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে শিশুটিকে ফিরে পেতে গত বছরের ডিসেম্বরে ফরিদপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করেন শিশুটির মা পপি বেগম। তবে মামলায় সন্তান বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও জোড়পূর্বক আটকে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং ফিরে পেতে আর্জি জানানো হয়। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল সার্স ওয়ারেন্টের মাধ্যমে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নগরকান্দা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের হান্নান সরদারের মেয়ে পপি বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামপাশা গ্রামের কাইয়ুম বিশ্বাসের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো এবং স্বামী ও ননদ মিতা বেগম বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করতে থাকে। এর মাঝে তাদের একটি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। পরবর্তীতে গত পাঁচ মাস আগে কলহের জের ধরে তালাক হয়। তালাকের পরে শিশু তানহাকে জোর করে রেখে দেয়া হয় এবং মায়ের অজান্তে শিশুটিকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে বাবার বিরুদ্ধে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
