ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৭ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
আম্পায়ারদের দিকে কবে মনোযোগ দেবে বিসিবি?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 11 May, 2025, 1:29 PM

আম্পায়ারদের দিকে কবে মনোযোগ দেবে বিসিবি?

আম্পায়ারদের দিকে কবে মনোযোগ দেবে বিসিবি?

ক্রিকেটার তাওহিদ হৃদয়ের অখেলোয়াড় সুলভ আচরণের প্রতিবাদে বিসিবির কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহিদ। এ নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে অনেক নাটকই মঞ্চস্থ হচ্ছে। হৃদয়ের শাস্তির বিপক্ষে ক্রিকেটাররা একজোট হয়েছিলেন। ক্রিকেট বোর্ডে তারা বৈঠক করেন। পরে বেরিয়ে এসে তামিম ইকবাল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান অসন্তুষ্টির কারণ। তবে বিশ্বকাপের আসরে একমাত্র বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শরফুদ্দৌলা এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে ‘টু’ শব্দটাও করেননি। তার সংশ্লিষ্ট সূত্র মারফত জানা গেছে, আইসিসির এলিট প্যানেলে থাকা একমাত্র বাংলাদেশি এই আম্পায়ার দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আর কোনো ম্যাচ পরিচালনা করবেন না।

আমরা যে ক্রিকেট পাগল জাতি এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের কথায় ও কাজে পরিকল্পনার ছাপ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে দেশজুড়ে বিশ্বমানের পেশাদার ক্রিকেট কাঠামো আদৌ আছে কি-না, এই প্রশ্ন খুব বেশি উচ্চারিত হয় না। প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেট স্বার্থের বাইরে অর্থ ব্যায়ে দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থা বিসিবিকে দেখা যায় উদার। কিছু ব্যতিক্রম বাদে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের শাসন আমলে বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করেন ক্ষমতাশালীরা। আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোতেও এমনটাই দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য সবকিছুর মতো ক্রিকেটও থাকে কোনো রকমের জবাবদিহিতার বাইরে। ফুটবলের নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর পাওয়া গেছে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ফিফার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার তদন্তে। ক্রিকেটেও এমন কিছু ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ইত্যকার যাবতীয় কাণ্ডে মূলত ধ্বংস হয় পেশাদারিত্ব। বিলম্বে হলেও যে জন্য গুণতে হয় চড়া মাশুল।  


আম্পায়ারিংয়ের বেলায়ও দেখা গেল এত বছরেও এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি শরফুদ্দৌলা, এনামুল হক ও মাসুদুর রহমানের মতো ক'জন আম্পায়ার। ক্রিকেটে খুব দরকারি ম্যাচ অফিসিয়াল ও আম্পায়ার। অথচ তা তৈরির জন্য উপযুক্ত পেশাদার কাঠামো গড়ে তোলায় বিসিবি যথেষ্ট উদ্যোগী নয়। আবার দেশের বোর্ড, আম্পায়ার আর খেলোয়ারদেরও এককভাবে দায়ী করা চলে না। খোদ আইসিসি, এসিসি বা কতটুকু মনোযোগী আম্পায়ারদের নিয়ে? বিরাজমান ক্রিকেট কাঠামোতে আম্পায়ারদের প্রতি অবহেলা ভুলে থাকা যায় না।

পাড়া-মহল্লার মাঠ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেটে ‘আম্পায়ার’ নামক চরিত্রের অসহায়ত্ব নিয়মিতই দেখা যায়। ম্যাচের আগে বা ম্যাচের সময় তার কাছে ফরমান আসে, ‘অমুক দলকে জিতিয়ে দাও বা তমুককে আউট দিবে না।’ ক্ষমতাবানের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেই লাঞ্ছনা জোটে। নাম না জানা কোনো দূর প্রান্তের ক্রিকেটার থেকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সবাই তেড়েফুঁড়ে আসেন আম্পায়ারের দিকে। ন্যুনতম ক্ষমতা ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে কম বেতনে চাকরি করা লোকটি কী আর করতে পারেন? বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। বলে শেষ করা যাবে না ম্যাচের পরিচালক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিটির প্রতি উপেক্ষার তালিকা।

গত বিশ্বকাপের আগে শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদের একটা ইন্টারভিউ পড়েছিলাম। তাতে টের পাওয়া যায় অবস্থা, যা আসলে কারোরই অজানা নয়। কেন ক্রিকেটে মত্ত এই দেশে মানসম্পন্ন আম্পায়ার খুঁজেই পাওয়া দায়? এই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, এটি যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অনেকের কাছে তা অবোধ্য। এ কাজে টাকা কম। অবস্থার উন্নতি হঠাৎ হবে না।
 
তবে পথটাও দেখিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, 
এখন কিছু কাজ হচ্ছে তবে মানসম্পন্ন আম্পায়ার পেতে আরও অর্থ খরচ করা উচিত। ম্যাচের সময় ভুল বা সঠিক সিদ্ধান্ত যেকোনো আম্পায়ারই দিতে পারেন। তবে বাংলাদেশে আম্পায়ারের ভুল ভয়ঙ্কর হিসেবে গ্রাহ্য হয়। কিন্তু আম্পায়ারিংয়ের বিবেচনায় বিষয়টিকে দেখতে হবে যে, পরের ম্যাচে বা আগামী সময়ে তিনি যেন তেমন ভুল না করেন। একেই বলে মান-উন্নয়ন প্রক্রিয়া।

কোনো দলগত খেলায় ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারি হয়ে ওঠার সুযোগ নেই। তবে এর আগে অবশ্য এটি নিশ্চিত হতে হবে যে, আদৌ আমরা 'দল' হয়ে উঠতে পারছি কি-না? সমষ্টির যাবতীয় অর্জন যখন দশকের পর দশক গিলে খায় স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্র, তখন বিপদ আসে চারপাশ থেকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে আম্পায়ারিং এই কালো ছায়া মুক্ত নয়। এক্ষেত্রে অবহেলার বিষয়টি উড়িয়ে দিতে পারবেন না কেউই।

জুলাই অভ্যুত্থানে বদল এসেছে অনেক কিছুতে। ক্রিকেটে সে বদলের ছোঁয়াতে আম্পায়ারিংয়ের পেশাদারিত্ব এলে খেলার মান বাড়বে। এ পেশা সংশ্লিষ্টরা মর্যাদাবান হবেন। কমে যাবে ম্যাচ ফিক্সিং। ম্যাচে বাড়বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পরিস্থিতি এমন হলে টিম টাইগার ভক্তদের চেয়ে বেশি খুশি হবেন না আর কেউই।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status